কয়েক বছর আগে যখন বাবা দুলাল দত্তের পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়ে, সৌম্যদীপ তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। চিকিৎসার জ‌ন্য কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়নো, নিউরোলজিস্টের অভাব তার চোখে ধরা পড়েছিল। চিকিৎসার জন্য শেষমেষ বেঙ্গালুরুতে যেতে হয়। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে চিকিৎসা চলছে। সেই সময় থেকেই সৌম্যদীপের ইচ্ছে, বড় হয়ে নিউরো-চিকিৎসক হবে।

মাধ্যমিক পরীক্ষায় তুখোড় ফল করেছে হুগলির ধনেখালির সোমসপুর-১ পঞ্চায়েতের জয়কৃষ্ণবাটী গ্রামের ছেলে সৌম্যদীপ। ধনিয়াখালি মহামায়া বিদ্যামন্দির থেকে পরীক্ষা দিয়ে সে ৬৮১ নম্বর পেয়েছে। টেস্ট পরীক্ষার থেকে ১৩ নম্বর বেশি। রাজ্যে মেধা তালিকায় স্থান দশম। মাধ্যমিকের ফলে খুশি সৌম্যদীপ বলে, ‘‘বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব। তার পরে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে ডাক্তারি।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সে জানায়, পড়ার বাঁধা-ধরা রুটিন ছিল না। তবে দিনে গড়ে সাত-আট ঘণ্টা পড়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ছবি আঁকতে ভালবাসে। ফুরসত পেলে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। ক্রিকেট-ভক্ত ছেলেটির আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে গলা ফাটিয়েছে। প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় খেদ রয়েছে। তবে মাধ্যমিকের মার্কশিট যে সব আক্ষেপ ভুলিয়েছে। এ দিন বাড়িতে গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী অসীমা পাত্র। সৌম্যদীপের বাবা দুলালবাবু শাড়ির ব্যবসা করেন। ধনেখালি তাঁত ছাড়াও ফুলিয়া-সহ নানা শাড়ির সম্ভার বাড়িতে। 

মা লীনাদেবী গৃহবধূ। দুলালবাবু বলেন, ‘‘পঞ্চম শ্রেণি থেকে মহামায়া বিদ্যামন্দিরে পড়ছে। অষ্টম শ্রেণিতে দ্বিতীয়। বাকি সব ক্লাসে প্রথম।’’