লঞ্চ থেকে গঙ্গায় পড়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক মহিলা। পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার সকালে চাঁদপাল ঘাট থেকে হাওড়াগামী লঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। মিলেনিয়াম পার্কের কাছে জলে পড়ে যান ওই মহিলা। তাঁর পরিচয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হয়নি পুলিশ। তবে লঞ্চে পড়ে থাকা এক জোড়া চটি দেখে জলে তলিয়ে যাওয়া মহিলাকে তাঁর দিদি বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন ফুলবাগানের এক যুবক। 

পুলিশ জানিয়েছে, লঞ্চ থেকে গঙ্গায় পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল আটটা নাগাদ। হাওড়া যাবেন বলে মহিলা টিকিট কেটে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের ‘এমভি ক্যারাভ্যান’ নামের একটি লঞ্চে উঠেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। লঞ্চটি চাঁদপাল ঘাট ছাড়ার কিছু ক্ষণ পরেই জলে পড়ে যান তিনি। তাঁর চটি জোড়া লঞ্চে ছিল। খবর পেয়েই রিভার ট্র্যাফিক পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধারে নেমে পড়েন। তবে রাত পর্যন্ত মহিলার খোঁজ মেলেনি।

ফুলবাগানের বাসিন্দা ওই যুবকের নাম সাবির আলম বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পরেই তিনি মা আকবরি বেগমকে নিয়ে চাঁদপাল ঘাটে পৌঁছন। পুলিশের কাছে যুবক দাবি করেন, এন্টালির বাসিন্দা তাঁর দিদি এ দিন এক জনের মোবাইল থেকে তাঁকে জানান, স্বামীর সঙ্গে গোলমাল হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন। তিনি চাঁদপাল ঘাটে আছেন, জলে ঝাঁপ দেবেন। এর পরেই তাঁরা ওই ঘাটে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন জামাইবাবু। পুলিশ জানায়, ঘাটে এসে তাঁরা জানতে পারেন এক মহিলা লঞ্চ থেকে পড়ে গিয়েছেন। সেখানেই চটি জোড়া পান। ঘাটের এক কোনায় বসে কাঁদতে কাঁদতে আকবরি বলেন, ‘‘স্বামীর সঙ্গে গোলমাল থাকলেও তিন সন্তানের মা হয়ে মেয়েটা যে এত বড় ঘটনা ঘটাবে ভাবতে পারছি না!’’ এ দিকে দিদিকে খুঁজতে তখন রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের লঞ্চে চেপে জামাইবাবুকে নিয়ে মাঝগঙ্গায় ভাই সাবির। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের তরফে তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ বলে দাবি করা হলেও উদ্ধারের পরেই ওই মহিলার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।