পুরনো প্রেম ভুলে থাকা যায়। ভুলে যাওয়া যায় কি!

তাই তো বাম-কংগ্রেস জোট মেনে নিতে না পেরে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা দূরত্ব তৈরি ডুব দিয়েছিলেন সাহিত্যের জগতে। সাহিত্য এবার মিশছে রাজনীতিতে। লেখা হচ্ছে নতুন বই। শিরোনাম— ‘পলিটিক্যাল হিস্টরি অফ বেঙ্গল। লেখকের নাম স্বপন দুবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। এ বারের ভোট কেমন দেখলেন? স্বপন বললেন, ‘‘বিগত নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে অনেক মানুষ নিজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এটাই হওয়া উচিত।’’

নারায়ণগড়ে স্কুল জীবন। কলকাতা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা। ১৯৬৮ সালে অজয় মুখোপাধ্যায়ের বাংলা কংগ্রেস দলে যোগদান। রাজনীতির শিক্ষাগুরু হিসেবে পেয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। বাংলা কংগ্রেস থেকে কংগ্রেসে যোগ দেন স্বপন। প্রণববাবু ছাড়াও কাজ করেছেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে। জেলা সভাপতি হওয়ার আগে সামলেছেন জেলা যুব কংগ্রেসের দায়িত্ব। সত্তরের দশকে ছিলেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকও। ২০১০ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পরে কেশপুর, লালগড় সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেসের সভা করেছেন। শান্তির দাবিতে মেদিনীপুর থেকে পিংলা, ময়না, তমলুক হয়ে কলকাতা পর্যন্ত পদযাত্রা করেছেন।

স্বপন এখনও এআইসিসি-র সদস্য। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। কেন এ ভাবে সরে রয়েছেন? স্বপন জানালেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট মেনে নিতে পারেননি। তারপর থেকে ধীরে ধীরে অন্তরালে। স্বপনবাবুর কথায়, ‘‘সিপিএমের আমলে নিজে হাতে আমাদের দলের অনেক কর্মীর মৃতদেহ বয়েছি। সেই সিপিএমের সঙ্গে জোট আমি মেনে নিতে পারিনি। নারায়ণগড়ের মাঠে কংগ্রেসের মানস ভুঁইয়া সিপিএমের সূর্য মিশ্রের গলায় মালা দিয়েছে। আমার ভাল লাগেনি।’’ অনর্গল স্বপন বলে চললেন, ‘‘২০১৬ সালের নির্বাচনে বার হয়নি। তবে আমি বিক্ষুদ্ধ রাজনীতিও করিনি। মানসকে বলেছিলাম, বন্ধু ভাল থেকো।’’

আরও পড়ুন: ‘বহুত বড়িয়া, ভেরি ইম্প্রেসিভ’, মোদীর সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ রাহুলের

রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা করতেন স্বপন। ২০১৬ থেকে ফিরে গেলেন সেই জগতে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কবিতা ছোটগল্প লিখেছেন। ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর লেখা ১৪টি কবিতা ও গল্পের বই প্রকাশ করেছিলেন। জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের উপর তাঁর লেখার জন্য ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি তাঁকে ‘ভারত জ্যোতি’ পুরস্কার দেয়। ২০১৭ সালে ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতার সুযোগ পেয়েছিলেন। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় যেতে পারেননি। 

রাজনীতি ছেড়েছেন। কিন্তু ভালবাসা আজও অটুট। তাই তো তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি হাতড়ে লিখছেন নতুন বই। স্বপনের কথায়, ‘‘১৯৬৮ থেকে আমার দেখা আমার রাজ্যের রাজনীতির নানা ঘটনা থাকবে ‘পলিটিক্যাল হিস্টরি অফ বেঙ্গল’ নামের এই বইটিতে।’’ রাজনীতি থেকে আপাতত পাকাপাকি ভাবে সাহিত্যের জগতে ঢুকে স্বপনের উপলদ্ধি, ‘‘শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের ‘ভাষা সন্ত্রাস’ বন্ধ হওয়া উচিত।’’

স্বপন যদি মধুর এমন, হোক না মিছে কল্পনা...