বছরে একাধিকবার জেলা-সফরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারই একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন তিনি। ফের পশ্চিম মেদিনীপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বারও একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস-উদ্বোধন করতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক স্তরে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বার বিগত সময়ে ঘোষিত প্রকল্পগুলির ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ তলব করল জেলা প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন দফতর ও ব্লকগুলিকে কাল, সোমবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক মানছেন, ‘‘জমা পড়া রিপোর্ট দেখে ওই প্রকল্পগুলির বর্তমান গতিপ্রকৃতি জানা সম্ভব হবে। তা জেনে পরবর্তী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়াও সম্ভব হবে।’’ জেলার এক বিডিও বলেন, ‘‘জেলার নির্দেশ পেয়েছি। যে পদক্ষেপ করার করছি।’’ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার মেদিনীপুরে ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল মনিটরিং কমিটি’র (ডিএলএমসি) বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস করা সব প্রকল্পের কাজ সব সময় সমান গতিতে এগোয় না বলেই অভিযোগ। সে দিক মাথায় রেখেই ওই রিপোর্ট তলব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, মূলত ২০১৬ সালের পরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী যে সব প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন, মূলত সেগুলিরই  রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ২০১৭ সালের মার্চে মেদিনীপুর কালেক্টরেট চত্বরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের শিলান্যাস হয়েছিল। খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। ভবনটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে। আবার ওই সময়ে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাস্তার সম্প্রসারণ, ডেবরায় বিদ্যুতের সাবস্টেশন, দাঁতন- ২ ব্লকের সাউরিতে নলবাহী পানীয় জলপ্রকল্প, চন্দ্রকোনা-ঘাটাল রাস্তার উপর কেঠাইখাল সংস্কার প্রকল্প, গড়বেতা- ৩ ব্লকে কৃষি অধিকর্তার অফিস নির্মাণ প্রভৃতি প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডেবরায় কংসাবতীর বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের শিলান্যাস হয়। খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। শালবনিতে খাদ্যশস্য মজুতের গুদামের শিলান্যাস হয়। খরচ ধরা হয় প্রায় ২ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। চন্দ্রকোনা-গোয়ালতোড়-সারেঙ্গা রাস্তা তৈরি প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল। খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এগুলির মধ্যে কিছু কাজ এখনও চলছে।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। কিছু প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়ে থাকতে পারে।  রিপোর্ট দেখে যে পদক্ষেপ করার করা হবে।’’