পুজোর মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে। জনসংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে পুজোর মঞ্চ হাতছাড়া করতে রাজি নয় কোনও রাজনৈতিক দলই। তাই বিশ্বকর্মা পুজো থেকেই পুজোর রাজনীতিতে পা রাখতে শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির।

হলদিয়া শিল্পাঞ্চল সহ গোটা জেলায় ৯টি বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছে গেরুয়া নেতৃত্ব। গেরুয়া শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) হাতে ধরে বিশ্বকর্মা পুজোকে হাতিয়ার করে জেলা-সহ রাজ্যে পুজো ‘দখল’-এর  প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে হলদিয়া টাউনশিপে বিএমএসের অফিসেই শুধু বিশ্বকর্মা পুজো হত। এবছর সেই তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। টাউনশিপ ছাড়াও তেঁতুলবেড়িয়া, মহিষাদলের মতো শিল্পাঞ্চল এলাকায় নতুন করে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাঁথির শঙ্করপুর মৎস্য বন্দরে সম্প্রতি নিজেদের ইউনিট খুলেছে বিএমএস। সেখানেও এ বার বেশ বড় আকারেই বিশ্বকর্মা পুজো করছে তারা। সৈকত শহর দিঘাতেও ধুমধাম করে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনে তারা। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গেটে, এগরা শহর ও পটাশপুর এলাকায় এই প্রথম বিএমএসের আয়োজনে বিশ্বকর্মা পুজো হচেছে।

লোকসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং তমলুক আসনে জয় না পেলেও শাসক দলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। তারপর থেকে বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে জেলায় সংগঠন বাড়াতে তৎপর তারা। বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনে তাদের এ ভাবে নেমে পড়া সেই চেষ্টার অন্যতম বলে মনে করছে রাজনীতিকরা। তবে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল। তৃণমূল সমর্থিত আইএনটিটিইউসি-র কার্যকরী জেলা সভাপতি শিবনাথ সরকারের দাবি, ‘‘কয়েকটি জায়গায় লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ধর্মের জিগির তোলার চেষ্টা করতে ওরা। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করে জেলায় কিছু লাভ হবে না।’’

পাল্টা বিএমএসের দাবি, জেলায় তাদের সংগঠন বেড়েছে। তাই তারা বিশ্বকর্মা পুজোর সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। সংগঠনের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ কুমার বিজলী বলেন, ‘‘এতদিন একচেটিয়া শ্রমিক সংগঠনগুলিকে দখল করে রাখত শাসক দল। এ বছর অনেকেই ভীতি কাটিয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তারাই উদ্যোগী হয়ে বিশ্বকর্মা পুজো করছে।’’

প্রসঙ্গত, অক্টোবরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র কলকাতায় এসে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তার আগে সরাসরি বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনে জড়িয়ে পড়ে গেরুয়া শিবির বাংলার পুজো দখলের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।