একটি টিউবওয়েল বসানোর কাজে আপত্তি। তা ঘিরে চলতি লোকসভা ভোটের মনোনয়নপত্র জমা শুরুর আগের দিনেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে আরও একবার উত্তপ্ত হল ময়নার বাকচা। পুলিশি অভিযানে গ্রামবাসীকে সতর্ক করতে নন্দীগ্রাম-পর্বের মতো মহিলাদের শাঁখ বাজানো থেকে শুরু করে পুলিশকে ঘিরে ব্যাপক বোমা ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠল। ঘটনায় আহত হয়েছেন চণ্ডীপুর থানার ওসি ইমরান মোল্লা-সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী। সারা রাতের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকে। 

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, বাকচা গ্রামের মধ্যপল্লী বুথে সোমবার সকালে একটি টিউবওয়েল বসানোর কাজ করেছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েত নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা। অভিযোগ, আদর্শ নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে ওই কাজে বাধা দেন স্থানীয় কয়েক জন বিজেপি কর্মী। এ নিয়ে তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের বচসা বাঁধে। সে সময় স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মিনু মাজির স্বামী বাণেশ্বর মাজি সেখানে যান। অভিযোগ, সে সময় বিজেপি সমর্থকেরা তাঁকে মারধর করেন। আহত বাণেশ্বরকে উদ্ধার করে ময়না ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়।

ওই ঘটনায় জড়িত বিজেপি’র  সমর্থকদের বিরুদ্ধে ময়না থানায় অভিযোগ করা হয় তৃণমূলের তরফে। অভিযুক্তদের ধরতে ওই রাতেই ২টো নাগাদ বাকচা গ্রামের পুলিশ ক্যাম্প থেকে তমলুকের এসডিপিও-সহ ময়না, চণ্ডীপুর, নন্দকুমার থানার পুলিশ মধ্যপল্লিতে যায়। সে সময় মহিলারা শাঁখ বাজিয়ে বিজেপি সমর্থকদের জড়ো করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযান শেষে ক্যাম্পে ফেরার সময় পুলিশকে সামনে-পিছনে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বোমাবাজি করতে থাকে বলে অভিযোগ।

বোমাবাজির সময় ছুটতে গিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন চণ্ডীপুর থানার ওসি ইমরান মোল্লা-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী। পুলিশ ক্যাম্পে ফিরে  আসার পরেও হামলা থামেনি। ক্ষুদ্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পুলিশ ক্যাম্পেও হামলা চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশ ক্যাম্পের সামনে মাঠে রাখা এসডিপিও’র গাড়ি-সহ পাঁচটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এসডিপিও’র গাড়িতে থাকা ক্যামেরা-সহ বেশকিছু জিনিসপত্রও লুঠ হয়েছে বলে অভিযোগ।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই তমলুক থেকে র‍্যাফ এবং কমব্যাট ফোর্স ঘটনাস্থলে আসে। রাতেই তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দুই বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার সকালে ময়না দক্ষিণ মণ্ডলের বিজেপি সহ-সভাপতি অলক বেরাকেও গ্রেফতার করা হয়।

তমলুকের এসডিপিও সব্যসাচী সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের ধরতে গ্রামে তল্লাশি চালানো হয়। ফেরার পথে বোমাবাজি করেছিল কয়েকজন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

কিন্তু যে টিউবওয়েল বসানো ঘিরে এত সমস্যা, সেই কাজের জন্য কি আদৌ নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হয়েছিল? 

ময়না ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রত মালাকার বলেন, ‘‘ওই কাজের ওয়ার্ক ওর্ডার আগেই হয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া, টিউবওয়েল বসালে বিধিভঙ্গ হয় না। বিজেপি সমর্থকেরা কাজে বাধা দিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীকে মারধর করেছে। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাকচায় সন্ত্রাস কায়েম করতে চাইছে।’’ যদিও বিজেপি’র তমলুক জেলা সাধারণ সম্পাদক নবারুণ নায়েকের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল বাকচার মানুষের সমর্থন হারিয়েছে। তাই তল্লাশির নামে পুলিশ এবং তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করছে। এর বিরুদ্ধে মানুষই রুখে দাঁড়িয়েছে।’’