রোগীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে যদি জখম হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে রোগীরা যান কোথায়!
 
দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে এখন এমনই আশঙ্কা রোগী ও রোগীর পরিজনদের। কারণ হাসপাতালের বহু জায়গায় বিশেষত, যেখানে রোগীরা ভর্তি থাকেন সে সব জায়গায় ছাদের সিলিংয়ের অবস্থা বিপজ্জনক। অনেক জায়গাতেই দেখা গিয়েছে, ছাদ থেকে সিমেন্টের চাঙড় খসে পড়ার চিহ্ন। কিছু কিছু জায়গায় এমন অবস্থা তাতে যে কোনও মুহূর্তে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শুধু রোগী ও তাঁর পরিজনেরা  নন, চিন্তিত হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরাও। কারণ, ওই অবস্থাতেই তাঁদের চিকিৎসা করতে হচ্ছে। যে কোনও সময় চাঙড় খসে পড়ে রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জখম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের বারান্দা, এমনকী ঘরের ভিতর এবং শৌচাগারেও এক অবস্থা। হাসপাতালের গুদাম ও রান্না ঘরের পরিস্থিতিও এক। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানালেন, একটু বৃষ্টি হলেই হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গা থেকে জল পড়ে। বহু জায়গায় দেওয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে।
 
শুধু এ রাজ্যের নয়, পাশের ওড়িশা রাজ্য থেকেও বহু রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওড়িশার ভোগরাই থেকে আসা প্রসূতি সুনীতা দলপতি, দিঘার কাছে মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছরের ধনঞ্জয় শিট। তাঁরা জানান, যে কোনও সময়ে চাঙড় খসে পড়ে বিপত্তি ঘটতে পারে।  কিন্তু উপায় কী? তাই ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে।
 
হাসপাতাল সুপার বিষ্ণুপদ বাগের আবাসনেও একই দশা। সামান্য বৃষ্টিতেই আবাসনগুলিতে জল পড়ে বলে অভিযোগ। এ সব নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসপাতালের কর্মীদের একাংশও। সুপার বিষ্ণুপদ বাগ বলেন, “রোগী কল্যাণ সমিতির সভায় এ সব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর হাসপাতালে মেরামতির কাজ করে। ইতিমধ্যে মেরামতির খরচ নির্ধারণ করে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের মাধ্যমে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। টাকা বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে।’’
 
কবে টাকা বরাদ্দ হবে, আপাতত সে দিকেই তাকিয়ে হাসপাতালে রোগী থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।