দিঘার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল ভাগের সমুদ্র লাগোয়া সড়ক পথ। যা পর্যটন কেন্দ্র দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমণি ও তাজপুরকে এক সুতোয় বাঁধবে। পর্যটকরা গাড়িতে বসে সমুদ্রের পাড় বরাবর রাস্তা দিয়ে সমুদ্রের শোভা দেখত দেখতে দিঘায় বা তাজপুরে আসাযাওয়া করতে পারবেন। স্থানীয় মানুষের কাছে যা ‘মেরিন ড্রাইভ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এর ফলে জেলার উপকূলের পর্যটন শিল্পের চেহারা পাল্টে যাবে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর আশা। এর আগে দিঘায় এসে প্রকল্পের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও দিঘা সফরে ফের বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করেন তিনি। দিঘা থেকে তাজপুর ‘মেরিন ড্রাইভ’-এর কাজ আর তিনটে সেতুর জন্য আটকে রয়েছে, শোনার পর বৃহস্পতিবার দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথমে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদকে। পরে পূর্ত দফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ত দফতরের আধিকারিক ও ঠিকাদাররা জানান, তিনটে সেতুর কাজ এখনও বাকি। দু’টি সেতুর কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ হবে। বাকি একটি সেতু তৈরিতে আরও সময় লাগবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী বিরক্তির সুরে জানতে চান, ‘‘আর কত বছর লাগবে? প্রতিবারই দিঘায় এসে শুনি আরও এক বছর লাগবে।’’ এরপরেই তিনি নির্মাণকারীদের সাবধান করে বলেন, “এটা যেমন তেমন ব্রিজ নয়। তাই সময় লাগলেও ভাল করে কাজ করতে হবে।’’

পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে শংকরপুর থেকে দিঘার মাঝে একটি, তাজপুর ও মন্দারমণির মাঝে একটি এবং শৌলা ও দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুরের মধ্যে তৃতীয় সেতু হওয়ার কথা। কিন্তু জমিজটে কাজ আটকে যায়। কিছু কিছু জায়গা লোকের ঘরবাড়ির মধ্যে পড়ে যাওয়ায় তাঁদের বাধায় কাজ আটকে ছিল। তবে সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত তা শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। এ দিন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা জানান, দিঘা, কাঁথি, রামনগর, হেঁড়িয়া ও নাচিন্দায় তিনটি বাইপাস রাস্তা তৈরি হবে।

শুক্রবার শংকরপুরের কাছে পূর্ব মুকুন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। শংকরপুর খালের পাশে মাটি পরীক্ষার পর পরীক্ষামূলক ভাবে দুটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে।