দিদিকে বলো’ কর্মসূচির জনপ্রিয়তা বাড়াতে রাখি বন্ধনকেও আশ্রয় করছে তৃণমূল।
 
দলের স্থানীয় এক কার্যালয়ে বসে রাখির ফিতে বাঁধছিলেন বুদ্ধ মণ্ডল, সুশান্ত দে’রা। ‘দিদিকে বলো’ রাখি। নেহাতই সাদামাঠা সে রাখি। সবুজ রিবনের মাঝখানে থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ‘দিদিকে বলো’র লোগো। বুদ্ধ বলছিলেন, ‘‘গতবার বিশ্ববাংলার লোগো দিয়ে রাখি তৈরি করেছিলাম। এ বার ‘দিদিকে বলো’র লোগো দিয়ে রাখি তৈরি করছি। এই রাখিগুলি রাখির দিনে পথচলতি মানুষজনকে আমরা পরাবো। এর মাধ্যমে ‘দিদিকে বলো’র বার্তাও মানুষের কাছে পৌঁছবে।’’
 
আগামিকাল, বৃহস্পতিবার রাখিবন্ধন। এ বারও রাখির দিনে সব রাজনৈতিক দলকে রাস্তায় দেখা যাবে। রাখি যেন সব রাজনৈতিক দলেরই ঐক্য- বার্তার হাতিয়ার! দলগুলির অন্দরে সেই প্রস্তুতি শুরুও হয়েছে। তৃণমূল ও বামেদের দাবি, বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’র মোকাবিলায় ‘সম্প্রীতি’র রাখিবন্ধন পালন করবে তারা। রাখির মাধ্যমেই সকলকে এক সুতোয় বাঁধার বার্তা দেওয়া হবে। দল হিসেবে তৃণমূল রাখির দিন পালন করে ‘সম্প্রীতি দিবস’ হিসেবে। এ বার উৎসবে ‘বাড়তি’ মাত্রা যোগ করতে চলেছে ‘দিদিকে বলো’ রাখি। নরেন্দ্র মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সংবলিত রাখিরও খোঁজ শুরু হয়েছে শহরে।
 
যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘রাখিতে নেত্রীর ছবি নিয়ে উন্মাদনা অস্বাভাবিক নয়। নেত্রীর দলের সৈনিক হিসেবে আমরা গর্বিত। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথীর মতো প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও জনপ্রিয় করেছে। তারই প্রভাব পড়ছে রাখির বাজারে।’’ বিজেপির জেলা সম্পাদক অরূপ দাসের মতে, ‘‘ভালবাসার প্রতীক হিসেবে রাখি বাঁধা উচিত। কেবল লোক দেখানো করলে কোনও লাভ হয় না।’’ তৃণমূলকে অরূপের খোঁচা, ‘‘দিদিকে তো অনেকেই অনেক কিছু বলতে চাইছেন বলে শুনছি। কিন্তু দিদি কি সে সব শুনছেন! শুনেছি, ওই নম্বরে ফোন করলে জানানো হচ্ছে, মমতাদির অফিস থেকে শীঘ্রই কল করে নেওয়া হবে। পরে না কি অনেকেই কল পাচ্ছেন না!’’ যা শুনে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিতের কটাক্ষ, ‘‘রাখিবন্ধনের আসল মানেটাই বোধহয় জানে না ওরা! ওরা তো সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করতে চায়।’’