স্কুলছুটির পর তাঁর দুই মেয়েকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ করলেন এক মহিলা। অভিযোগের তির স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। গত ১৮ মার্চ কাঁথির একটি বালিকা  বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দুই মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।  কাঁথি মহিলা থানায় সোমবার রাতে অভিযোগ দায়ের করেন উত্তর দারুয়া গ্রামের ফরিদা বিবি। যদিও সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ফরিদা বিবির স্বামী।

পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, কাঁথির উত্তর দারুয়ার ফরিদা বিবির বিয়ে হয়েছিল রামনগর থানার সাতবেটিয়া গ্রামের মির্জা শওকত বেগের সঙ্গে। বিয়ের পর তাঁদের পরপর তিনটি কন্যাসন্তান জন্মায়। ফরিদা বিবির অভিযোগ, ছেলে না হওয়ায় স্বামী তাঁকে ভরণপোষণ না দিয়ে, মারধর করে তাড়িয়ে দেন। তারপর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এই অবস্থায় তিন নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে ফরিদা বিবি বাপের বাড়িতে বাস করছেন। তাঁর  দুই মেয়ে কাঁথির একটি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ফরিদা বিবির  অভিযোগ,  ওই দুই মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে স্বামী তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে।

ফরিদার স্বামী মির্জা শওকত বেগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমার মেয়েদের অপহরণের কোনও চেষ্টা করিনি। তা ছাড়া আমি দ্বিতীয় বিয়েও করিনি। ফরিদা আমার সঙ্গে ঘর করতে চায় না। আমার কাছে মোটা টাকা হাতানোর জন্যই এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে।’’

যদিও ফরিদা বিবির দাবি, “শ্বশুরবাড়ির এলাকার পঞ্চায়েত প্রতিনিধি সমস্ত বিষয়টি জানেন।  আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে কাঁথি আদালতে মামলাও দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় আমার স্বামী জামিন পেয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।  যদি মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে হয়, তা হলে রাস্তা থেকে কেন? আলোচনার মাধ্যমে বা বাড়ি থেকে মেয়েদের নিয়ে যেতে পারত।’’

কাঁথি মহিলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়েছি। দুই মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছিল কিনা তার তদন্ত শুরু হয়েছে।