হাতে দু’মাসেরও কম সময়। কারণ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিধানসভায় জানিয়েছেন আগামী ২ অক্টোবর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে চালু হচ্ছে আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষামন্ত্রীর পরে জেলার অন্যতম তৃণমূল নেতা ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন ২ অক্টোবর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। অথচ মহাত্মা গাঁধীর নামাঙ্কিত ওই বিশ্ববিদ্যালয় চালু নিয়ে এখনও ‘ধোঁয়াশা’ থেকে গিয়েছে প্রশাসনের একাংশের মধ্যেই। এমনকী আপাতত যেখানে পঠন পাঠন শুরু হবে সেই মহিষাদল রাজ কলেজে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার কোনও চিহ্ন এখনও অদৃশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কবে অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে, কিংবা ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বেরোবে— সে বিষয়েও কোনও সদুত্তর মেলেনি সংশ্লিষ্ট কারও কাছে। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে বিধানসভায় মহিষাদলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে বলে বিল পাশ করেছে রাজ্য সরকার। তারপর থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আশা আকাঙ্ক্ষার পারদ চড়তে শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুর তথা হলদিয়া মহকুমার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।

রাজ্য সরকার মহিষাদলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে সচেষ্ট হলেও বাস্তব চিত্র বস্তুত তার বিপরীত। মহিষাদল রাজ কলেজে গিয়ে দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ এক ধাপও এগোয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০ একর জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত মার্চ মাসে উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পরিদর্শনে এসেছিলেন।  তখন মহিষাদলের রাজ কলেজে আপাতত পঠনপাঠন শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কলেজর নবনির্মিত ছ’ তলা ভবনের উপরের তিনটি তলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই মতো নীচের তলাগুলিতে কলেজের ক্লাস চালু হয়েছে। কিন্তু বাকি তিনটি তলা এখন ফাঁকা অবস্থায় পড়ে। অধ্যাপক নিয়োগ কিংবা ভর্তি সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি এখনও বেরোয়নি বলে জানা গিয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ অসীম কুমার দাস বলেন, ‘‘মাত্র একবারই উচ্চ শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা কলেজ পরিদর্শনে এসেছিলেন। তা ছাড়া, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও নির্দেশিকা আসেনি।’’ প্রায় একই প্রতিক্রিয়া শোনা গিয়েছে কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তিলক কুমার চক্রবর্তীর গলাতেও। তিনি জানান, তাঁরা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। নতুন কোনও নির্দেশিকা আসেনি তাঁদের কাছে।

অতিরিক্ত জেলাশাসক (ট্রেজারি) প্রশান্ত অধিকারী বলেন, ‘‘যে জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার কথা তা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

উল্লেখ্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় মহাত্মা গাঁধীর নামে করার জন্য গোড়া থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন রাজ্যে পরিবহণ মন্ত্রী তথা হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২ অক্টোবর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এতসবের পরেও যে ভাবে বি‌শ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির কাজ ঢিমে তালে চলছে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয় কবে চালু হবে তা নিয়ে সংশয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষানুরাগীরা। সংশয়ে প্রশাসনের একাংশও।