তবে কি পুরনো অধিনায়কই ফের জেলা পরিষদে ফিরছেন? জল্পনা বাড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলে। জানা গিয়েছে, শুক্রবারই জয়ের শংসাপত্র নিয়েছেন জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি উত্তরা সিংহ। পঞ্চায়েত ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে এতদিন এই শংসাপত্র প্রশাসনের কাছে পড়েছিল। 

শনিবার মেদিনীপুরে জেলা তৃণমূলের এক বৈঠকও হয়েছে। দলের এক সূত্রে খবর, জেলা পরিষদে নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি অবশ্য দাবি করেন, “কে সভাধিপতি হবেন সেই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব এখনও কিছু জানাননি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” শুক্রবারই কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন অজিতবাবু। দলের এক সূত্রের দাবি, তাঁকে জরুরি তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগের দিন বৃহস্পতিবারও কলকাতায় গিয়েছিলেন অজিতবাবু। সে দিন ডেকেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির সুব্রত বক্সী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে? মুখ খোলেননি অজিতবাবু। শুধু বলেন, “সাংগঠনিক ব্যাপারে কথা হয়েছে।”   

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সভাধিপতি নির্বাচনের দিন স্থির হয়েছে। বৈঠকে অজিতবাবু জানিয়েছেন, ওই দিন সকাল ন’টা নাগাদ দলের সিদ্ধান্তের কথা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তী সভাধিপতি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম ঘোরাফেরা করছে দলের অন্দরেই। জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদটি মহিলা সংরক্ষিত। এক সূত্রের দাবি, উত্তরা সিংহই ফের সভাধিপতি হবেন। আবার অন্য এক সূত্রের দাবি, দৌড়ে আরও তিন মহিলা রয়েছেন। এঁদের একজন আবার আদিবাসী। এ দিনের বৈঠকের পরে দলের এক সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, সম্ভবত রাজ্য নেতৃত্ব পুরনো মুখেই আস্থা রাখতে চলেছেন। ঘটনাচক্রে, উত্তরাদেবী যখন শংসাপত্র নিতে যান, তার কিছু আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেরে মেদিনীপুরে ফেরেন অজিতবাবু। স্বভাবতই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।