আধা সেনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী, বুথের সুরক্ষায় সব রকম আয়োজনই সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যে পঞ্চম দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ঘটেছে। বুথের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সব দিক দেখে আরও নড়েচড়ে বসেছে  কমিশন। কমিশনের এক সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটে মোট ১৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। জেলার প্রায় সব বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কথা। জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়াও মানছেন, ‘‘জেলায় ১৭৪ কোম্পানি  বাহিনী থাকছে।’’ এর মধ্যে ১৬৬ কোম্পানি শুক্রবারই চলে এসেছিল। বাকি ৮ কোম্পানি শনিবার এসেছে বলে পুলিশের এক সূত্রে খবর। এক সেকশনে ৮ জন জওয়ান থাকেন। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, বুথ ক্যাম্পাসে ন্যূনতম হাফ সেকশন অর্থাৎ, কমপক্ষে ৪ জন জওয়ান থাকবেন। সর্বোচ্চ তিন সেকশন অর্থাৎ, ২৪ জন জওয়ান থাকতে পারেন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ক্যাম্পাসে একটি বুথ থাকলে সেখানে হাফ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। ক্যাম্পাসে দু’টি বুথ থাকলে সেখানেও হাফ সেকশন বাহিনী থাকবে। ক্যাম্পাসে তিনটি বুথ থাকলে বাহিনী বেড়ে এক সেকশন হবে। আবার ক্যাম্পাসে দশটির বেশি বুথ থাকলে সেখানে তিন সেকশন বাহিনী থাকবে।

কমিশনের তরফে পুলিশকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যাতে ভোটের দিনে কোথাও বসিয়ে রাখা না হয়, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতি কোম্পানি থেকে ৯ সেকশন বা ৭২ জন জওয়ানকেই যাতে ভোটের কাজে ব্যবহার করা হয় পুলিশকে তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে ক্যাম্পাসে একটিই বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ১,১৭৮। দু’টি বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ২৩৬। তিনটি বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ৩৬। অন্য দিকে, ঘাটাল লোকসভায় ক্যাম্পাসে একটিই বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ১,৫১৩। দু’টি বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ২৬৮। তিনটি বুথ রয়েছে, এমন বুথের সংখ্যা ৭। বুথের মধ্যে কেউ ভোটারদের উপর প্রভাব খাটাচ্ছেন কিনা, সে দিকে নজর রাখবেন মাইক্রো অবজার্ভার। পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ১,৯৮৮ জন মাইক্রো অবজার্ভার থাকছেন বলে জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর।   জেলার একশো শতাংশ বুথেই বাহিনী থাকবে। সাধারণত, বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে সেখানে সিসি ক্যামেরা, ওয়েব কাস্টিং বা মাইক্রো অবজার্ভার রাখা হয় না। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্র জানাচ্ছে, ২০১৬- র বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এসেছিল। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

কোন এলাকায় কতজন মাইক্রো অবজার্ভার থাকছেন? প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ১,৯৮৮ জন মাইক্রো অবজার্ভারের মধ্যে দাঁতনে থাকছেন ১২০ জন, কেশিয়াড়িতে ১২১ জন, খড়্গপুর সদরে ২২৫ জন, নারায়ণড়ে ১১৭ জন, সবংয়ে ১২৪ জন, পিংলায় ১২৬ জন, খড়্গপুরে ১২৭ জন, ডেবরায় ১১১ জন, দাসপুরে ১৬৩ জন, ঘাটালে ১৬০ জন, গড়বেতায় ১২৭ জন, শালবনিতে ১৫৫ জন, কেশপুরে ১২২ জন এবং মেদিনীপুরে ১৯০ জন।  প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ রয়েছে, যে সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে তিনটি বুথ রয়েছে সেখানে একজন মাইক্রো অবজার্ভার থাকতে পারেন। তিনের বেশি বুথ থাকলে দু’জন মাইক্রো অবজার্ভার রাখতে হবে। সব মিলিয়ে, বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও কমিশনের ‘চৌকিদার’ হিসেবে সেখানেও মাইক্রো অবজার্ভার, ওয়েব কাস্টিং, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিয়োগ্রাফির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলার ১,৩৮১টি বুথে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকছে। ৬০১টি বুথে লাইভ ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে।