পাশে বাবা, দেবের গলায় রামমন্দির
কেশপুরের নানা এলাকায় প্রচারে দিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ভোট চাইতে গেলে কাউকে ছোট করতে হবে, কাউকে চোর বলতে হবে, আমি এই রাজনীতি বিশ্বাস করি না। যে দিন মনে হবে, কাউকে কাদা ছুড়ে, ছোট করে ভোট চাইতে হবে, সে দিন আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’’
dev

মঞ্চে বাবা-ছেলে। নিজস্ব চিত্র

এ বার লোকসভা ভোটে প্রচারের শুরু থেকেই পুরোদস্তুর রাজনৈতিক কথাবার্তা বলছেন দেব। সিনেমার সংলাপ বলা নায়ক নন, ধরা দিচ্ছেন পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করা সাংসদ। 

সেই দেব শুক্রবার কেশপুরের সভাতেও রাজনীতির কথা বললেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল রামমন্দির থেকে গোমাংস, নাম না করে খোঁচা দিলেন নরেন্দ্র মোদীকেও। দেবের কথায়, ‘‘আপনি যদি আমাকে ভোট দেন তাহলে রামমন্দির হবে, মহাকাশ সুরক্ষিত থাকবে— এটাই আজকের রাজনীতি হয়ে গিয়েছে। গরুর মাংস চলবে কি না তা নিয়ে ভোট হচ্ছে, কিন্তু গরুদের কথা কেউ ভাবছে না। কেউ ভাবছে না যে গরুগুলো দু’বেলা খাবার পাচ্ছে কি না, মানুষের মাথার উপর ছাদ আছে কি না।’’ তাঁর আর্জি, ‘‘২০১৯ সালের নির্বাচন হোক উন্নয়ন নিয়ে, কে কী কাজ করেছে তা নিয়ে। কাউকে কাদা ছোড়া বা কাউকে ছোট করা নিয়ে নয়। রাজনীতি হোক মানুষের ভালর জন্য।’’

এ দিন বারবার দেবের কথা ফিরে এসেছে সৌজন্য। কেশপুরের নানা এলাকায় প্রচারে দিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ভোট চাইতে গেলে কাউকে ছোট করতে হবে, কাউকে চোর বলতে হবে, আমি এই রাজনীতি বিশ্বাস করি না। যে দিন মনে হবে, কাউকে কাদা ছুড়ে, ছোট করে ভোট চাইতে হবে, সে দিন আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’’ তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ এ-ও দাবি করেন, কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্য সরকার উন্নয়ন খাতে অনেক বেশি খরচ করছে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা—কেশপুর কার্যত চষে ফেলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী। সঙ্গে ছিলেন বাবা গুরুপদ অধিকারী। দেব জানান, তাঁর বাবা কেশপুরে আসতে চেয়েছিলেন। দেবের বাবাকেও এ দিন কিছু বলতে অনুরোধ করেছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। তা শুনে হেসে ফেলেন দেব। বলেন, ‘‘বাবা তো বক্তব্য রাখে না। আচ্ছা, তা-ও দেখছি।’’ পরে ছেলের অনুরোধে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গুরুপদ বলেন, ‘‘১২ মে আপনারা দেবকে ভোটটা দেবেন। সাবধানে বাড়ি ফিরবেন।’’ দেবের কথায়, ‘‘কেশপুর নিয়ে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। কারণ কেশপুর আমার বাবার জন্মস্থান। আমার ছোটবেলার অনেকটাও এখানে কেটেছে।’’ স্মৃতিচারণার মাঝেও ধরা দেয় দেবের রাজনীতিক সত্তা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ছোটবেলায় যখন কেশপুরে আসতাম, বেশিরভাগ রাস্তাই মোরামের ছিল। এখন পাকা হয়েছে।’’ এ দিন কখনও তিনি গিয়েছেন তেঘরি, আনন্দপুরে। কখনও জগন্নাথপুর, মুগবসানে। মাঝে সোলিডিহা, শ্যামচাঁদপুর, সাহসপুরও ঘুরে এসেছেন। সব মিলিয়ে ১০টি এলাকায় কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী। তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন।

মাঠে চাষের কাজ ফেলে তেঘরির সভায় এসেছিলেন অমিয় দোলুই। সভা শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অমিয় বলছিলেন, ‘‘দেব তো বলে গেল! দেখি, এ বার নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারি কি না!’’ খোঁচা দিচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘‘কেশপুর জুড়ে শুধু অনুন্নয়ন। মানুষ ফুঁসছেন। ঠিক সময়ে জবাব দেবেন।’’