দিন কয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিরোধী দল বিজেপি বা কংগ্রেস বা বামেরা পূর্ব মেদিনীপুরের তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি। ফলে বর্তমানে কার্যত ফাঁকা মাঠেই পুরোদমে প্রচার শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। রাস্তায় হচ্ছে মিছিল।
পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে এগরার পটাশপুর এবং ভগবানপুর-১ ব্লক রয়েছে। কাঁথি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী দু’বারের সাংসদ তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী। তাঁর প্রচারে মহকুমার সর্বত্র কর্মীরা দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করেছেন। পটাশপুর ১ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীর সমর্থনে মিছিলে নেমেছে তৃণমূল। মোড়ে মোড়ে হোর্ডিং-ব্যানার-পোস্টার মারার কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চাশ শতাংশ দেওয়াল লিখনের কাজ প্রায় শেষ।  করে ফেলেছে। 
এই পরিস্থিতিতে কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রাজ্যের দুই প্রধান বিরোধী দল সিপিএম এবং বিজেপি। কোনও দলেরই এখনও পর্যন্ত কাঁথি ও তমলুক কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। শুধুমাত্র দলীয় নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠকেই আপাতত ব্যস্ত রয়েছে দুই শিবির। এ বিষয়ে পটাশপুরের  নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা শম্ভু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রার্থী ঘোষণার না হওয়ায় এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে ভোট প্রচারে নামা হচ্ছে না। তবে গ্রামে গ্রামে সাংগঠনিক দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি ক্রমেই সরছে সেই থেকে আগাম ভোটের প্রচারে নেমেছে।’’
পটাশপুরের বাম নেতা কালিপদ দাস মহাপাত্র বলেন, ‘‘প্রার্থী তালিকা ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ভোট প্রচারের অপেক্ষায় করছেন কর্মীরা। তবে সাংগঠনিক এবং ঘরোয়া  বৈঠকে  জোর দেওয়া হচ্ছে।’’

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায়  সিপিএম এবং বিজেপি’কে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। পটাশপুরের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা মৃণালকান্তি দাস বলেন, ‘‘সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল এবং মানুষের সংযোগ থেকে বিছিন্ন হওয়ার কারণেই ওই দুই দল এখনও নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করতে পারছে না। ফলে মানুষের কাছে পৌঁছতেও সাহস পাচ্ছে না ওরা।’’