নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য গ্রিটিংস কার্ড পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরে অনুষ্ঠান করে বিলি হবে সেই কার্ড। আর সেই অনুষ্ঠান হবে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ১২ জানুয়ারি জেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠান হবে। সেখানেই স্কুল পড়ুয়াদের মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছা কার্ড দেওয়া হবে।

সোমবার জেলা পরিষদের শিক্ষা স্থায়ী সমিতির বৈঠক ছিল। বৈঠকে এই কার্ড বিলির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই ১২ জানুয়ারি ওই অনুষ্ঠান করার কথা ঠিক হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ মানছেন, ‘‘১২ জানুয়ারি জেলা পরিষদ চত্বরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান থেকেই স্কুল পড়ুয়াদের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেওয়া হবে।’’ ওই দিন থেকে বিভিন্ন স্কুলেও এই কার্ড বিলি শুরু হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, জেলা পরিষদের সভাঘরে নয়, জেলা পরিষদ চত্বরে মঞ্চ বেঁধে অনুষ্ঠান হবে। থাকবেন সাংসদ, বিধায়ক, জেলা কর্মাধ্যক্ষেরা। থাকবেন জেলা পুলিশ-প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকেরা। 

এই প্রথম এমন গ্রিটিংস কার্ড পাবে স্কুল পড়ুয়ারা। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের সব পড়ুয়াকেই নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে গ্রিটিংস কার্ড পাঠাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় কার্ড পৌঁছতে শুরু করেছে। প্রশাসনের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, এর আগে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আইসিএসই, সিবিএসই, মাদ্রাসা বোর্ডের কৃতীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাড়িতে ফুল-মিষ্টি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে মানপত্র। ফলপ্রকাশের দিন সেরা পড়ুয়াদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। সেরাদের সংবর্ধিতও করেছেন। অনেকে মনে করছেন,  সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগে জনসংযোগেই এ বার কার্ড বিলি। 

প্রশাসন সূত্রে খবর, স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে কার্ড পৌঁছবে। প্রধান শিক্ষকেরা কার্ডে পড়ুয়ার নাম লিখে তা সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে দেবেন। জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, আমলাদের কার্ড পাঠানোর রীতি তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল পড়ুয়াদের কার্ড পাঠানো এক নতুন সংযোজন। জেলা সভাধিপতি উত্তরার মতে, ‘‘ছাত্রছাত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা কার্ড হাতে পেলে অবশ্যই উৎসাহিত হবে।’’ সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতির কথায়, ‘‘স্কুল পড়ুয়ারা এই কার্ড বাড়িতে নিয়ে যাবে। আর তার মানে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।’’