হাতির মৃত্যু ঠেকাতে বৈঠক করল রেল ও বন দফতর। মঙ্গলবার খড়্গপুরের ডিআরএম অফিসে এই বৈঠকে আগাম সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি একটি ‘জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ দিনের বৈঠকে রেলের আধিকারিকরা, বেশ কয়েকজন ডিএফও উপস্থিত ছিলেন। মাস খানেক আগেই খড়্গপুর-টাটানগর শাখার গিধনি স্টেশনের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারপরই নড়েচড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ ও বন দফতর। হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হাতি মৃত্যুর পাশাপাশি ট্রেন দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। বিপদ হতে পারে ট্রেনের যাত্রীদের। এমন পরিস্থিতি এড়াতে রেল ও বন দফতরের সমঝোতা প্রয়োজন বুঝেই এ দিনের এই বৈঠক।

খড়্গপুরে রেলের জনসংযোগ আধিকারিক কুলদীপ তিওয়ারি বলেন, “আমাদের ডিভিশনের লম্বা রেলপথের মাঝে জঙ্গল থাকায় মাঝে মধ্যে হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে বন দফতর ও আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে চলেছি।

আপাতত কিছু পরিকল্পনা হয়েছে। পরে আরও একটি বৈঠকে বসা হবে।’’ আর খড়্গপুরের ডিএফও অরূপ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আপাতত সমীক্ষায় নেমে প্রাথমিকভাবে রেলের টাটানগর শাখায় এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কী করনীয় তা দেখা হবে। পরে রেলের আদ্রা শাখাতেও এমন
সমীক্ষা হবে।’’               

রেল ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতির মৃত্যু ও ট্রেন দুর্ঘটনা রুখতে নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে বৈঠকে। প্রাথমিকভাবে খড়্গপুর-টাটানগর শাখার ঘাটশিলা পর্যন্ত কীভাবে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। পরে খড়্গপুর-আদ্রা শাখায় গড়বেতা পর্যন্ত একই পদক্ষেপ করা হবে। এ দিন সেই মতো খড়্গপুর-টাটানগর শাখার মাঝে হাতির স্বাভাবিক গতিপথের একটি তথ্য রেলের হাতে তুলে দিয়েছেন বনকর্তারা। তবে ইদানীং হাতি যাত্রাপথ বদল করায় দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে। ঠিক হয়েছে, আগামীতে রেল ও বন দফতর ওই শাখায় সমীক্ষা করবে। তারপর হাতি-ট্রেনের সংঘাত এড়াতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা হবে।

অবশ্য তার আগে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য হাতির গতিবিধির খবর আগাম রেলকে জানিয়ে দেবে বন দফতর। সেই মতো রেল ওই শাখায় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে। আবার গার্ড, চালকেরা পথে হাতি দেখলে বন দফতরকে জানাবেন। বিভিন্ন এলাকায় রেল লাইনের ধারে সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।