বছরের প্রথম দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নানা প্রান্তে সাড়ম্বরে পালিত হল তৃণমূলের ২১তম প্রতিষ্ঠা দিবস।

সেই উপলক্ষে এ দিন নিজের শহর কাঁথির রূপশ্রী বাইপাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভায় মন্ত্রী নিশানা করেন বিজেপি-কেই। তাঁর কথায়, “দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারানোর জন্য ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে রাম নবমীর দিন শহরে মিছিল করেছিল বিজেপি। এ বার সেই বিভেদ রুখতে রাম নবমীর দিন কাঁথিতে মিছিল করবে তৃণমূল। ব্যবস্থাপনায় থাকবেন কাঁথির পুরপ্রধান।” এ দিন শুভেন্দুর বার্তা, “কুৎসা এবং অপপ্রচার করে তৃণমূলের মধ্যে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। এ ভাবে তৃণমূলকে রোখা যাবে না। সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে এবং ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নতুন বছরে এক হয়ে লড়তে হবে।” পাশাপাশি আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার কথা বলেন মন্ত্রী।

সোমবার প্রতিষ্ঠা দিবসে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কম্বল বিতরণের পাশাপাশি সাংগঠনিক প্রসঙ্গেও কথা বলেন শুভেন্দু। বিগত পুরভোটে এই ওয়ার্ডে প্রচুর ভোট পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এই দলীয় শক্তি বাড়াতে পৌষ সংক্রান্তির পরেই ওয়ার্ড নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলে ঘোষণা করেন শুভেন্দু। প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা প্রাক্তন পুর কমিশনার রমাকান্ত মাইতির আবক্ষমূর্তি উন্মোচন করেন মন্ত্রী।

বিকেলে নন্দীগ্রামে পদযাত্রা করলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়া মোড় থেকে নন্দীগ্রাম থানা পর্যন্ত সুসজ্জিত মিছিলটি বেরয়। অন্য দিকে, হলদিয়ায় দলীয় নেতারা এ দিন নানা সমাজসেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। দুর্গাচকের নিউমার্কেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, হলদিয়ার পুরপ্রধান শ্যামল আদক, শ্রমিক নেতা সত্য সাহু প্রমুখ।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠান হয় তমলুক শহর-সহ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়। সোমবার সকালে তমলুকের হাসপাতাল মোড়ের কাছে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। হাজির ছিলেন তমলুকের পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন, শহর তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু রায়-সহ পুরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতারা। শহরের ২০টি পালিত হয় প্রতিষ্ঠা দিবস। এ দিন শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের মেচেদা বাজারের কাছে শান্তিপুর ১ অঞ্চল তৃণমূলের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন সাংসদ শিশির অধিকারী। চণ্ডীপুর বাজারে তৃণমূলের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে রক্তদান শিবির আয়োজন করা হয়। হাজির ছিলেন বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদ সদস্য অপর্ণা ভট্টাচার্য, তৃণমূল ব্লক সভাপতি অশ্বিনী দাস। পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট শহরেও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় প্রতিষ্ঠা দিবস।

এ দিন ঘাটাল শহরের বসন্তকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ে কেক কেটে দলের জন্মদিন পালন করেন ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলই। পরে একটি শিবিরে রক্তদান করেন ১৬০ জন। ক্ষীরপাই শহরেও নানা অনুষ্ঠান হয়।