এ বার ‘জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানে’ (জ্যাপ) প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। তার খসড়া পাঠানো হয়েছে রাজ্যে। অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসনের পদস্থ এক আধিকারিক মানছেন, ‘‘এ বার জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানে অর্থ বরাদ্দ হবে। কাজের জন্য পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।’’

প্রশাসনের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, মাওবাদী প্রভাবিত জঙ্গলমহল এলাকার জন্য আগে কেন্দ্রের প্রকল্প ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যান’ (আইএপি) ছিল। এক সময়ে সেই প্রকল্পে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ হলেও কয়েক বছর আগে সেই প্রকল্প তুলে দেয় কেন্দ্র। অর্থ বরাদ্দও বন্ধ হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিশেষ প্রকল্প বন্ধ করলেও রাজ্য তা বন্ধ করতে রাজি হয়নি। কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ বন্ধের পরে ওই প্রকল্পের ধাঁচেই রাজ্য সরকার ‘জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যান’ চালু করে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর, শালবনি এবং গোয়ালতোড় (গড়বেতা-২) এই তিনটি ব্লক মাওবাদী প্রভাবিত বলে পরিচিত। তারা ওই প্রকল্পের অর্থ পায়।

এক সময়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যানের’ (আইএপি) বরাদ্দ অর্থে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় মার্কেট কমপ্লেক্স, কমিউনিটি হল, শৌচালয় তৈরির কাজ হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর,  এ বার ‘জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানে’ (জ্যাপ) সব মিলিয়ে ১২ কোটি ৪০ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৯৭ টাকার প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে মেদিনীপুর সদর ব্লকের জন্য ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা, শালবনির জন্য ৩ কোটি এবং গোয়ালতোড়ের জন্য ৩ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থ পায় বন বিভাগও। তারাও সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করে। তাই মেদিনীপুর বন বিভাগ ১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার ও রূপনারায়ণ বন বিভাগ ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার প্রকল্প তৈরি করেছে।

এই প্রকল্পের অর্থে জঙ্গলমহলের রাস্তা, পানীয় জল, সেচের মতো অনেক কাজ হবে। যেমন মেদিনীপুর সদর ব্লকের ইঞ্জিলাচক আদিবাসী পাড়ায় সাবমার্সিবল পাম্প তৈরি হবে। তার খরচ ধরা হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা। মেদিনীপুর সদর ব্লকের শিরোমণিতে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের খরচ ধরা হয়েছে ১১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা। গোয়ালতোড়ের কদমবাঁধিতে ঢালাই রাস্তার প্রস্তাবিত খরচ ১০ লক্ষ টাকা। গোয়ালতোড়ের কদমডিহা জুনিয়র হাইস্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ তৈরি হবে। খরচ ধরা হয়েছে ১৩ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। শালবনি স্টেডিয়ামে মাল্টিজিমের জন্য ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘দ্রুতই এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।’’