• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নয়া গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় আজ থেকে কড়াকড়ি 

med
ফাইল চিত্র।

চার দফার লকডাউন শেষে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছিল ‘আনলক-পর্ব’। স্বাভাবিক হচ্ছিল অফিসের কাজকর্ম থেকে জনজীবন। এর মধ্যেই করোনার বাড়বাড়ন্তে ফের নতুন করে গণ্ডিবদ্ধ এলাকা (কনটেনমেন্ট জ়োন) চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি, কড়া লকডাউনের দাওয়াই দিল রাজ্য সরকার। পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন গণ্ডিবদ্ধ এলাকাগুলিতে আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে লকডাউনের কঠোর নিয়মকানুন।

বুধবার জেলাশাসকের অফিসে বিভিন্ন পুরপ্রধান, প্রশাসক এবং আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ। ছিলেন জেলা প্রশাসনের অন্য আধিকারিকেরাও। বৈঠকের পরে জেলা প্রশাসনের তরফে গণ্ডিবদ্ধ এলাকার নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গণ্ডিবদ্ধ এলাকার মধ্যে রয়েছে তমলুক, হলদিয়া, পাঁশকুড়া পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড। এছাড়া, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক, কোলাঘাট, তমলুক, মহিষাদল, হলদিয়া, সুতাহাটা, ভগবানপুর-১, পটাশপুর-১ এবং দেশপ্রাণ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাও গণ্ডিবদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকায় কীভাবে সরকারি নির্দেশাবলী কার্যকর করা হবে, তা  নিয়ে বৈঠকে  আলোচনা করেন জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিকেরা ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরার পরে জেলায়। করোনা আক্রান্তের সংখ্য বেড়ে গিয়েছিল। মাঝে সেই সংখ্যা কিছুটা কম হলেও সম্প্রতি তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতেরর বুলেটিন অনুসারে, বুধবার পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫৮। এক দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তিত প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্য দফতর।

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় বাসিন্দারা যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হন, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মাস্ক না পরলে জরিমানা করা হবে। গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় আনাজ বাজার, দুধ, রেশন দোকান ও ওষুধ দোকান খোলা রাখা যাবে। বাকি সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘‘কনটেনমেন্ট জ়োন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কনটেনমেন্ট জ়োনের বাসিন্দারা যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া, ওই সমস্ত এলাকায় জমায়েত এড়াতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশ-প্রশাসন নজরদারি চালাবে।’’ জেলাশাসক আরও জানান, ৯ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে কনটেনমেন্ট জ়োনগুলিতে সরকারি নির্দেশ কার্যকরী হচ্ছে। সরকারিভাবে পরবর্তী নির্দেশ না জানানো পর্যন্ত এইসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

এ দিন তমলুক পুরসভার তরফে শহরে মাইক প্রচার করে গণ্ডিবদ্ধ এলাকাগুলির নাম, কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা বাসিন্দাদের জানানো হয়। তমলুকের পুরপ্রশাসক রবীন্দ্রনাথ সেন বলেন, ‘‘শহরে গণ্ডিবদ্ধ এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে বড়বাজার ও মহাপ্রভু বাজার। ওই বাজারে শুধুমাত্র  আনাজ বাজার, দুধ ও ওষুধ দোকান খোলা থাকবে। বাকি সব দোকান বন্ধ থাকবে। নিয়মকানুন মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা দেখতে পুলিশ-প্রশাসন এবং পুরসভা যৌথভাবে অভিযান চালাবে। মাস্ক না পরলে জরিমানা করা হবে।’’       

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন