শুকিয়ে যাওয়া জনসংযোগ সজীব করতে তৃণমূলের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চলছে। অথচ তারই মাঝে বন্ধ হয়ে গেল শাসকদলের কার্যালয়। ছবিটা পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের বোলবান্দির। 

তৃণমূলের অভিযোগ, দুষ্কৃতী হামলার জেরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বোলবান্দি বুথের কার্যালয়টি। দলীয় সূত্রে খবর, শুধু গোয়ালতোড় ব্লকেই এই নিয়ে তৃণমূলের তিনটি কার্যালয় কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে।

গোয়ালতোড় ব্লকের আমলাশুলি অঞ্চলের বোলবান্দি বুথের তৃণমূলের অফিসে সোমবার রাতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে, আগুন লাগিয়ে কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়, এমনকি বোমাবাজিও করে। তৃণমূলের গোয়ালতোড় ব্লকের সভাপতি ভাস্কর চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘‘বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বোলবান্দিতে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালায়, বোমাবাজি করে আগুন লাগিয়ে দেয়। বিজেপির পায়ের তলার মাটি যতই সরছে, ততই তারা এ ধরনের নোংরামি করছে।’’ যদিও অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির গোয়ালতোড় উত্তর মণ্ডলের সভাপতি উজ্জ্বল হাটুই বলেন, ‘‘বোলবান্দিতে তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলার পিছনে ওদেরই কারসাজি রয়েছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’’

আমলাশুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে বোলবান্দি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনের আগেও বোলবান্দি বুথের তৃণমূলের পার্টি অফিসটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখনও তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিজেপির হামলায় বন্ধ করতে হয়েছে কার্যালয়। ভোটের কয়েকদিন আগে অবশ্য মিছিল করে এই পার্টি অফিস খুলেছিল তৃণমূল। তবে লোকসভা ভোটে বোলবান্দি গ্রামের দু’টি বুথেই বিজেপির কাছে হেরে যায় তৃণমূল। তার পর থেকেই এখানকার বাঁধপাড়ের পার্টি অফিস বন্ধই ছিল। তাতে বুথ এলাকায় দলীয় কার্যকলাপেও ভাটা পড়ে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির মধ্যেই রাজ্য নেতৃত্ব নির্দেশ দেন, যে সব এলাকায় কার্যালয় খোলার মতো পরিস্থিতি নেই, সেখানে বাড়তি নজর দিয়ে বন্ধ কার্যালয় খুলতে হবে। গোয়ালতোড় ব্লকে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চলছে। ব্লক ও যুব সভাপতিদের গ্রাম সফর শুরু হয়েছে। বোলবান্দির কার্যালয়ও খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই কার্যালয়ে হামলা চলায় ও কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন তৃণমূলের ব্লক নেতৃত্ব। যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি গণেশ দত্ত বলেন, ‘‘পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে বন্ধ করে দিলেও মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজ চলবে। প্রতিটি এলাকায় দলীয় কার্যকলাপও চলবে।’’

লোকসভা ভোটের পর গোয়ালতোড় ব্লকে এই নিয়ে তৃণমূলের তিনটি কার্যালয় কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। বোলবান্দি ছাড়াও সারবোত অঞ্চলের চাতরা ও জগারডাঙা অঞ্চলের জগারডাঙায় বন্ধ হয়ে রয়েছে তৃণমূল অফিস। দলের ব্লক কার্যকরী সভাপতি শ্যাম শতপতি বলেন, ‘‘চাতরাতে খোলার মতো পরিস্থিতি আছে। কিন্তু দলীয় কর্মীরা নিয়মিত পার্টি অফিস খুলছেন না। আর জগারডাঙাতে সিপিএমের একটি অফিসে অস্থায়ীভাবে বসে আমরা কাজ চালাচ্ছিলাম। এখন সেখানে বিজেপি পতাকা টাঙিয়ে অফিস করেছে।’’ 

দলের এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘বিজেপির সন্ত্রাসের জন্যই গোয়ালতোড়ে আমাদের তিনটি পার্টি অফিস খুলে নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ চালানো যাচ্ছে না।’’ অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা উজ্জ্বল হাটুই বলেন, ‘‘তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ করছে। ওদের মানুষ আর চাইছেন না। ফলে পার্টি অফিস খোলার সাহসও পাচ্ছে না।’’