রবিবার সরস্বতী পুজো। তার ঠিক একদিন পরেই শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা। অথচ, বুধবার রাত থেকেই পুজোর প্রস্তুতিতে তারস্বরে মাইক বাজানোর অভিযোগে সরব হল জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা।     

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাঁথি মহকুমার রামনগর-২ ব্লকের উত্তর কানপুর গ্রামে বুধবার বিকেল থেকেই সাউন্ড বক্সের দাপাদাপি শুরু হয়েছে। একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, খুব জোরে ডিজে বক্স বাজানো হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী রামনগর থানায় অভিযোগ জানানো হলেও। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্লাবের সরস্বতী পুজো রয়েছে। তারাও শুক্রবার ত্থেকে ডিজে-বক্স বাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘‘পরীক্ষার এক সপ্তাহও আর বাকি নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিটিং-মিছিল থেকে মেলা তো ছিলই, এ বার পুজোকে কেন্দ্র করে যে ভাবে বক্স-মাইক্র অত্যাচার চলছে তাতে পরীক্ষার জন্য পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। রামনগর থানায় মৌখিক অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।’’

যদিও এমন অভিযোগ নিয়ে রামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘জোরে সাউন্ড বক্স বাজানোর ঘটনা জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’ শুধু রামনগর নয়, সরস্বতী পুজো ঘিরে হলদিয়া, সূতাহাটা, নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম, কাঁথি, এগরা, ময়না এলাকায়  ডিজে বক্সের দৌরাত্ম্য প্রতি বছরের চেনা ছবি। হলদিয়ার পরিবেশ কর্মী মধুসূদন পড়ুয়া বলেন, ‘‘ডিজে-বক্সের দৌরাত্ম্যে এমনিতেই পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তার উপর এ বার সরস্বতী পুজোর একদিন পরেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। যাতে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা না হয়, পুলিশ-প্রশাসনকে সে বিষয়ে নজরদারির জন্য আবেদন জানিয়েছি।’’

তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, বড় বড় পুজো উদ্যোক্তাদের থানা কিংবা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নেওয়ার সময় সতর্ক করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিধি মেনে পুজোর দিন সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হলেও, বিসর্জনে সাউন্ড বক্স নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘সরস্বতী পুজোয় ডিজে বক্স বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতে অসুবিধে না হয় সে জন্য প্রতিটি থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’’

প্রশাসনের তৎপরতা কতটা কাজ দেয়, সেটাই এখন দেখার।