কয়েক বছর ধরে সড়কের উপরে পিচের বদলে ইট-মোরামের আস্তরণ দেওয়া দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন এলাকাবাসী। অথচ ওই রাজ্য সড়কে বাস, লরি, ট্যাক্সি থেকে সাইকেল, মোটরসাকেল, টোটো চলাচলের বিরাম নেই। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সদর তমলুক শহর থেকে শ্রীরামপুর হয়ে কাঁসাই নদীর সেতু পেরিয়ে চলে যাওয়া ওই রাজ্য সড়কে ময়না বাজার থেকে বলাইপন্ডা বাজার পর্যন্ত আট কিলোমিটার অংশের শোচনীয় হাল নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর।
 
সড়কের বেশিরভাগ অংশে পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোওয়া বেরিয়ে পড়েছে। যেখানে সেখানে গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও রাস্তার একাংশ ধসে গিয়ে বিপজ্জনক অবস্থা। এতদিন ইট ও মোরামের তাপ্পি মেরেই বেহাল অংশ সামাল দেওয়া হচ্ছিল বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।
 
বছর তিনেক ধরে বেহাল ওই সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন বাসিন্দারা। সড়কের হাল ফেরাতে ময়না বাজার থেকে বলাইপণ্ডা হয়ে মেদিনীপুরগামী সড়কে পশ্চিম মেদিনীপুরের  পিংলার মুন্ডমারী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণের প্রকল্প নিয়েছে পূর্ত দফতরের সড়ক বিভাগ। কিন্তু তারপরেও সড়ক মেরামতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের। এর কারণ, গোটা শীত-গ্রীষ্ম পেরিয়ে যাওয়ার পর ভরা বর্ষার মরসুমে ময়না বাজার থেকে বলাইপন্ডা বাজার পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
 
কাঁসাই সেতুর কাছ থেকে বৃহস্পতিবারের বাজার পর্যন্ত বালি ও স্টোনচিপস দিয়ে রাস্তার কাজ হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত দাস, দেবব্রত মাজীর অভিযোগ, ‘‘ময়না থেকে বলাইপন্ডা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কথা দেড় বছর ধরে শুনে আসছি। কিন্তু শীত ও গ্রীষ্ম পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি। এখন এই বর্ষায় কাজ শুরু হয়েছে। বালি-স্টোন চিপের আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে রাস্তার ওই অংশ ইতিমধ্যে ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ভাবে কাজের ফলে সড়কের গুণগতমান কেমন হবে তা বোঝাই যাচ্ছে।’’
যদিও পূর্ত দফতরের নির্বাহী বাস্তুকার শিবশঙ্কর মালাকার বলেন, ‘‘ওই ৮ কিলোমিটার অংশের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। সময়সীমা মেনে চলার জন্যই বর্ষায় কাজ হচ্ছে। তবে এখন পিচের অংশ ছাড়া বাকি কাজ হবে। বর্ষার পরে পিচের কাজ হবে।’’
 
ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুব্রত মালাকারের দাবি,‘‘সম্প্রসারণ-সহ স্থায়ীভাবে মেরামতির জন্য সড়কে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে। বর্ষার পরে সড়কের পূর্ণাঙ্গ কাজ হবে। এ নিয়ে কেউ আমাদের কাছে ক্ষোভ জানাননি।’’