সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে কোপ পড়েছে সিজারে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছোটখাট অস্ত্রোপচার (কোল্ড অপারেশন)। কারণ, অ্যানাস্থেটিস্ট রয়েছেন এক জন।ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল এবং সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল— দু’টি মিলিয়ে শয্যাসংখ্যা ৩০০। ঘাটাল মহকুমা-সহ হাওড়া ও হুগলি জেলার একটি বড় অংশের মানুষ নির্ভরশীল। এখন শুধুমাত্র সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, মাসে কমবেশি চারশো সিজার হয়। দৈনিক সিজার হয় দশ-বারোটি করে। এখানে প্রসূতিদের ভিড় বরাবরই বেশি। অ্যানাস্থেটিস্টের অভাবে সমস্যা হচ্ছে সিজারে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ঘাটাল হাসপাতালে চার জন অ্যানাস্থেটিস্ট ছিলেন। এদের মধ্যে তিন জন স্থায়ী ও এক জনকে অন্য হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছিল। ক’দিন আগে এক জন এমডি পড়তে যাওয়ায় কমে দাঁড়িয়েছিলেন তিন জন। দিন কয়েক আগে একজনের চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখন এক জন স্থায়ী এবং এক জন অন্য হাসপাতাল থেকে এসে সপ্তাহে দু’দিন কাজ করছেন। এর জেরেই সমস্যা।

ঘাটালের প্রবীর কাপাস বলেন, “আমার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। অপারেশন জরুরি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাস খানেক পর যোগাযোগ করতে বলছেন। বুঝতে পারছি না সময়ে অপারেশন করাতে পারব কিনা।” হাসপাতালের আরেক রোগী গঙ্গাধর মণ্ডল বললেন, “আমার টনসিল অপারেশন করতে হবে। বারবার হাসপাতালে আসছি। ডেট পাচ্ছি না। বাইরে থেকে করানোর সামর্থও নেই।” দাসপুরের নাড়াজোলের বন্দনা সানকি বললেন, “আমার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে ঘুরছি। ডেট পাচ্ছি না। তাড়াহুড়ো থাকলে বাইরে করিয়ে নিতে বলছেন। এত টাকা কোথায় পাব?” ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সুপার কুণাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “সমস্যার কথা স্বাস্থ্যভবনে জানানো হয়েছে।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “দ্রুতই ঘাটালে অ্যানাস্থেটিস্টের সমস্যা মিটে যাবে।”

দিনদিন চাপ বাড়ছে হাসপাতালটিতে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এখানে চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতিও হচ্ছে। এখানেই ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করতে বিষয়েও উদ্যোগী হয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্ক্যান পরিষেবা চালু করার ব্যাপারে ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের উদ্যোগী হয়েছেন। ক’দিন আগেই এখানে ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনও চালু হয়েছে। এছাড়াও গলব্লাডার, অ্যাপেন্ডিক্স, হারনিয়া- সহ নানা প্রকার অস্ত্রোপচার হয়। শল্য বিভাগে সি-আর্ম মেশিন এনে হাড়ের অস্ত্রোপচারও হচ্ছে। এ ছাড়াও চোখ এবং ইএনটি বিভাগেও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার হয়। দিন সাতেক ধরে সিজার বাদে সমস্ত অস্ত্রোপচার বন্ধ হয়ে গিয়েছে।