শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দরিদ্র মানুষের জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছিল। সেই ঘর বিলির ক্ষেত্রে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। কাটমানি ফেরত-সহ আরও একাধিক দাবিতে মঙ্গলবার রানাঘাট পুরসভার পুরপ্রধান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে স্বারকলিপি জমা দিয়েছে বিজেপি যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। এ দিন পুরসভার সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

সংগঠনের রানাঘাট শহর মণ্ডলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গরিবদের ঘর বিলির ক্ষেত্রে কাটমানি নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। যেমন, রানাঘাট পুরভায় ৬৬ জন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। এর তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা। শহরে বেপরোয়া ভাবে টুকটুক চলার কারণে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর থেকে মুক্তির ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়েছে। শহরে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। অবিলম্বে এর প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। একটি সংস্থাকে দিয়ে শহরে টোল ট্যাক্স আদার করা হয়। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে এই ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।    

সংগঠনের রানাঘাট দক্ষিণ জেলা সভাপতি ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গরিব মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার নামে ৩০-৩৫ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়া হয়েছে। কাটমানির কোন রশিদ হয় না। সাধারণ মানুষ এর প্রমাণ কোথা থেকে দেবেন? পিছনের দরজা দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। পুরসভা এই টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা না-করলে সাধারণ মানুষ টাকা আদার করে ছাড়বে। আমরা তাঁদের পিছনে থাকব। এ ছাড়াও, আমরা শহরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবি রেখেছি।”

রানাঘাট শহরের পুরপ্রধান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে ছ’দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল কাটমানি ফেরত। ওঁদের বলেছি, নির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  নিয়ম মেনেই কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বাইরে থেকে টুকটুক বেআইনি ভাবে শহরে প্রবেশ করার জন্য কিছু সমস্যা হয়েছে। সব বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”

রানাঘাট শহর তৃণমূলের কার্যকরি সভাপতি পিন্টু সরকার বলেন, “কাটমানির বলে চিৎকার করে আমাদের সরকার এবং দলকে বিব্রত করতে চাইছে বিজেপি। কোনও প্রমাণ না-থাকা সত্ত্বেও ওঁরা ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছেন। আমি তাঁদের বলব উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে বলুন, আমরাও তখন ওই সব লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।”