বুথ লাগোয়া এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণে‌র মধ্যেই শুরু হবে ভোটগ্রহণ পর্ব। 

বুথ চত্বরে সাজো সাজো রব। বুথে ঢোকার আগে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ— ‘কোনও নেশার দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করবেন না।’ পাশের ফ্লেক্সে নিবার্চনের নির্ঘণ্ট। বুথে ঢোকার মুখে অনুসন্ধা‌ন অফিস, যে কোনও সাহায্যে প্রস্তুত। পাশে রাখা প্রথামিক চিকিৎসার টুকিটাকি সরঞ্জাম। 

বুথে ঢুকতেই পুলিশকর্মীর তল্লাশি—  ‘কই পরিচয় পত্র দেখি।’ পকেট থেকে বার করে ভোটার কার্ড দেখালে তবেই মিলছে প্রবেশের অনুমতি। দরজার পাশে লম্বা তালিকা, প্রার্থীদের। সঙ্গে তাদের প্রতীক। ফার্স্ট পোলিং অফিসার খুব কঠিন মুখ করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ছাড়ব স্যর!’’ একটু বিরক্তি নিয়েই জবাব দিলেন প্রিসাইডিং অফিসার, ‘‘বুঝে কাজ করুন, সব জিজ্ঞেস করার কী আছে!’’ শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে আসা ঝানু ‘অবসার্ভার’দের সামনেই চলল এই ভোট পর্ব।

লাইনে দাঁড়িয়ে পীযূষ মণ্ডল, শুভজিৎ হালদার, দেবু হাজরা। সকলেই ‘বৈধ’ ভোটার। রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী যিশুও। খটকা শুধু একটা জায়াগাতেই, বয়স কারওই আঠারোর উর্ধ্বে নয়। মেরেকেটে, আট বড়জোর দশ।

গত নির্বাচনে তাদের স্কুল বারুদ গন্ধে ভরে উঠেছিল। শুনেছিল বোমার শব্দনাদ। লাঠি আর উইকেট হাতে অবাধ ছোটাছুটি আর মারধর দেখেছিল জানলার আড়াল থেকে, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট না দিয়ে মাথা নীচু করে ফিরে যেতে হয়েছিল যাঁদের তাঁদের কচিকাঁচারাই বৃহস্পতিবার শিশু সংসদ নির্বাচনে দেখিয়ে দিল ভোটের নিয়মকানুনের নিপুণ খুঁটিনাটি।

টুপি না নৌকা, কোন প্রতীকে পড়বে ভোট তা নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও নিতান্তই চাপা, উল্লাস, হট্টগোল, চিৎকার, ছুড়ে দেওয়া ভয়— কিচ্ছু নেই আজ।

প্রার্থী ২০ জন। ভোটার ১১৪। পুরো ভোট গ্রহন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে বাইরের স্কুল থেকে আসা বালিকারা। বুথের পুলিশকর্মী সবনূর খাতুন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। বলছে, ‘‘পোলিং বুথে কোনও গন্ডগোল বরদাস্ত করা হবে না। ভোট ভালয় ভালয় মিটেছে। অশান্তি হয়নি।’’

এই বুথ বেলডাঙার আণ্ডিরণ গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই তুমুল সন্ত্রাসের দুপুরটা এখনও পোড়া দেওয়ালে বোমার স্মৃতি নিয়ে চুপ করে আছে। সেই পণ্ড দিনের চেহারাটা পৌষের দুপুরে আমূল বদলে দিয়ে বহিরাগত পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ‘‘অবাধ ভোট হয়েছে।’’

শিশু সংসদের জন্য এত দিন মনোনয়ন হত। এ বারই নির্বাচন হল। শিক্ষকদের কথায়, চাপিয়ে দেওয়া নয়। তারা নিজেরা নির্বাচন করুক। ৩০ নম্বর আণ্ডিরণ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘‘এটা স্কুলের অষ্টম শিশু সংসদের সাধারণ নির্বাচন। ১১৪ জন ভোটার ২০ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করল।’’