দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। জখম সাগ্নিক ঘোষ নামে ওই পড়ুয়াকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গুরুতর আঘাতে ওই পড়ুয়ার হাতে রক্ত জমে গিয়েছে।  

রবিবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পরে সোমবার রানাঘাট থানায় ওই গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সাগ্নিকের মা চম্পা ঘোষ। চম্পার অভিযোগ, সাগ্নিক রানাঘাট পালচৌধুরী হাইস্কুলে পড়ে। এ দিন সন্ধ্যায় রানাঘাটের দক্ষিণপাড়ায় সৌভদ্র ঘোষের বাড়িতে পড়তে গিয়েছিল সাগ্নিক। রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ জখম অবস্থায় সে বাড়ি ফেরে। হাতে কালশিটে পড়ে যায়। মাথাতেও বেশ আঘাত পেয়েছে। তার এক জেঠতুতো দাদা ও কয়েক জন বন্ধু সাগ্নিককে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

সাগ্নিকের মা চম্পা বলেন, “ওদের মুখ থেকেই গোটা বিষয়টি জানতে পারি। ভাবতেই পারছি না, এ ভাবে কোনও শিক্ষক ছাত্রকে মারতে পারে। ঘটনার পরে তিনি ফোন পর্যন্ত করেননি। শিক্ষকের কাছে ছেলেকে পাঠিয়েছি লেখাপড়ার জন্য। তাকে শাসন করার সব রকম অধিকার শিক্ষকের আছে। কিন্তু সেই শাসনের মাত্রাটা তো বুঝতে হবে। ছেলেটার যে ক্ষতি হয়ে গেল তার দায় কে নেবে?’’

মারধরের অভিযোগ অবশ্য স্বীকার করেছেন ওই গৃহশিক্ষক সৌভদ্র ঘোষ। তিনি বলেন, “সাগ্নিক ঠিক মতো লেখাপড়া করছিল না। সেই কারণেই ওকে শাসন করেছি। এ ছাড়া আমার অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ভেবেছিলাম, পড়ানো শেষ হলে বাড়ি ফিরে সাগ্নিকের বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানাব। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি।’’ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে সাগ্নিক বলে, ‘‘স্যর ৫০ নম্বরের অঙ্ক পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তাতে আমি ২০ পেয়েছি। সেই কারণে স্যর খুব রেগে গিয়ে আমাকে মারধর করেন।” সাগ্নিকের সহপাঠীদের কথায়, ‘‘স্যরকে আচমকা ও ভাবে রেগে যেতে দেখে আমরাও বেশ অবাক হয়েছিলাম। এ ভাবে কাউকে মারাটা বোধহয় ঠিক নয়।’’ যদিও অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, ‘‘এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও সৌভদ্র এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।’’ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।