হাজারদুয়ারির দক্ষিণ দরওয়াজার গায়ের প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরওয়াজাটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সংরক্ষিত। সর্বেক্ষণের বক্তব্য, ভূমিকম্পের ফলেই এই ফাটল দেখা দিয়েছে। সর্বেক্ষণের পুরাতত্ত্ববিদ গৌতম হালদার দীর্ঘ দিন হাজারদুয়ারি মিউজিয়ামের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানান, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে এই দরওয়াজাটি নবাব আলি জাঁ-র কেল্লার একটি প্রধান ফটক ছিল। আলি জাঁ-র উত্তরসূরি হুমায়ুন জাঁ-র আমলে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ তৈরি হয়। দরওয়াজাটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে বছর দশেক আগে সর্বেক্ষণ তা সংস্কার করে। গৌতমবাবু জানান, দরওয়াজা বানানোর সময় ইটের গাঁথনির উপরে চুন-সুড়কির প্লাস্টার করা হয়েছিল। তাই সংরক্ষণের সময়েও সেই একই পদ্ধতি মানা হয়। তিনি বলেন, ‘‘খুব ভাল ভাবে সেই কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু ভূমিকম্পের ফলে ফাটল দেখা দিতে পারে।’’ সংস্কারের কাজও তাড়াতাড়ি শুরু হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবশ্য বক্তব্য, দরওয়াজার গায়ে ফাটল আগেই চোখে পড়েছে, ভূকম্পের পরে তা বেড়ে যায়। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ পার্থ দাসের বক্তব্য, এখনই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের প্লাস্টার খুলে ফেলে ফাটল ঠিক কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা দেখে নেওয়া উচিত। রাজ্য পুরাতত্ত্ব দফতরের প্রকাশচন্দ্র মাইতির কথায়, ফাটল এমন নয় যে, সৌধটি ভেঙে পড়বে। তবে সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা দরকার।