পাশাপাশি বাড়ি। ও বাড়ি থেকে বিয়ের প্রস্তাব খারিজ করেছিল এ বাড়ি। রবিবার অ্যসিড ছুড়ে পড়শি কিশোরীর মুখ ঝলসে দিয়ে তারই ‘শাস্তি’ দিল ও বাড়ির যুবক। ভরতপুরের মসজিদ পাড়ায় জামাত শেখের পড়শি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক কিশোরী। কিছু দিন ধরেই বছর সতেরোর সেই নাবালিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল জামাত। কিন্তু এমন গায়ে গা লাগানো বাড়িতে আবার বিয়ে হয় নাকি! এমনই যুক্তি দেখিয়ে ওই কিশোরীর পরিবার সে বিয়ে নাকচ করে দেন। আর তারই ‘বদলা’ হিসেবে জামাতের ছোড়া অ্যাসিডে পুড়ল ওই কিশোরীর মুখ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনার পরেই গ্রাম ছেড়ে পালায় জামাত। পুলিশ ওই যুবকের মা’কে আটক করে জেরা করছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ‘‘অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে।। তার মা সালু বিবিকে জেরা করা হচ্ছে।’’ ভরতপুর সিনিয়র মাদ্রাসা স্কুলের ওই ছাত্রী এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হতে পারেনি। পাশের বাড়ির যুবক জামাত শেখ ও তার পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বাড়ির পাশে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই কিশোরীর পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। অভিযোগ তারপর থেকেই  রাস্তার কিশোরীকে জামাত প্রায়ই উত্যক্ত করত। বৃহস্পতিবার বিকালে ভরতপুর বাজারে তার হাত ধরেও টানাটানি করে ওই যুবক বলে অভিযোগ। তাকে শাসানোও হয়। ত্রিশোর্ধ্ব ওই যুবক শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিশেষ কাজকর্মও করত না সে। এ বিয়েতে তাই মত ছিল না ওই কিশোরীর পরিবারের। 

রবিবার রাতে জানলা দিয়ে ওই কিশোরীর মুখে অ্যাসিড ছোড়ে জামাত। ওই কিশোরীর এক আত্মীয় জানান, জামাতকে পালিয়ে যেতেও দেখেছেন তাঁরা। ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালেই আপাতত ভর্তি সে। হাসপাতালের শয্যা থেকে  কিশোরী বলে, “আমার সঙ্গে ওর কোনও দিনই সম্পর্ক ছিল না। আমি বিয়ে করতেও রাজি ছিলাম না। রাতে শুয়েছি। হঠাৎ কী একটা মুখে পড়ল, খুব জ্বালা।’’

কিশোরীর বাবা বলেন, “মেয়ের কোথায় বিয়ে দিলে সুখী হবে সেটা বাড়ির বড়রাই ঠিক করে। ওই বয়স্ক প্রতিবন্ধী ছেলে তার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেয় না কি? তা বলে ও যে এমন কাণ্ড করবে ভাবতেও পারিনি।’’