বীরনগর পুরসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করল সিমিএম এবং নির্দল কাউন্সিলররা। বুধবার পুরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র তৃণমূলেরই ১১ জন কাউন্সিলর শপথ নিয়েছেন।

এ দিন সিপিএমের ১১ নম্বর  ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরদিন্দু দেবনাথ এবং ১০ নম্বর  ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর নন্দদুলাল রায় ও গোবিন্দচন্দ্র পোদ্দার  শপথ নেননি । তাঁদের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের লোকজন প্রচার করেছিল, বুধবার তাদের দলের কাউন্সিলররা শপথ নেবেন। এই ঘটনায় আশঙ্কা করেছিলাম, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গেলে ওরা গোলমাল পাকাবে। তাই যাইনি।’’ পরে তাঁরা রানাঘাটে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

পুরপ্রধান তৃণমূলের পার্থকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কর্মীরা প্রচার করেছে তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলর শপথ নেবেন। এতে অন্যায়ের কিছু নেই। সিপিএমও প্রচার করে বলতে পারত, তাদের দলের কাউন্সিলর শপথ নেবেন।’’

অন্য দিকে এ দিন অবশ্য সন্ত্রাস ও ছাপ্পাভোটের অভিযোগ তুলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করেন সিপিএম-এর দুই কাউন্সিলর। সিপিএম কাউন্সিলর সৌমেন মাহাতো বলেন, ‘‘তৃণমূল নির্বাচনের সময় যে ভাবে গা জোয়ারি করল তা সচরাচর দেখা যায় না। ওঁরা ভোটের দিন বহিরাগতদের এনে যে ভাবে গোটা শান্তিপুর শহর দাপিয়ে বেড়াল তা এককথায় নজিরবিহীন। নির্বাচন প্রক্রিয়া কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। তারই প্রতিবাদ করে আমরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করলাম।’’ যদিও অজয়বাবু বলেন, ‘‘বিষয়টি সত্যি হলে উনি জিতলেন কী করে?’’ এ দিন উপ পুরপ্রধান মনোনীত হয়েছেন তৃণমূলের আব্দুল সামাদ কারিগর।

পুরপ্রধান নির্বাচন। টানা ছ’বার পুরপ্রধান হিসেবে শপথ নিলেন অজয় দে। আগের পাঁচ বার তিনি কংগ্রেসের টিকিটে জিতে শপথ নিয়েছিলেন। এ বার শপথ নিলেন তৃণমূলের টিকিটে জিতে। বুধবার শান্তিপুর পুরসভার পুরপ্রধান হিসাবে শপথ নেন অজয়বাবু। শপথ নেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে তা পালন করব।’’