‘ও স্যর, এ বারে ভোট দিতে পারব তো?’
পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার পর নিজেদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে জঙ্গিপুর লোকসভা নির্বাচনে এ বার সরব হয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপির নেতা-কর্মীরাও।
poll

এই প্রশাসনের অধীনে নিরপেক্ষ ভোট কি সম্ভব? প্রশ্ন জঙ্গিপুরের। ছবি: এপি।

ভোটদানে অভয় দিতে গিয়ে জঙ্গিপুরের এক গ্রামে ক্ষোভের মুখে পড়তে হল পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের। এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গ্রামে গিয়েছিলেন জনাকয়েক পুলিশ আধিকারিক। সঙ্গে ছিলেন বিডিও। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছিলেন, “আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিন। কেউ ভয় দেখালে পুলিশকে জানান। নিজের ভোট নিজে দিন। সবাই ভোট দিতে বুথে চলুন।” 

তাল কাটলেন এক বৃদ্ধ। বছর পঁচাত্তরের এক বৃদ্ধ বলতে শুরু করলেন, ‘‘শিক্ষকতা করতাম। কিন্তু এ অভিজ্ঞতা কখনও হয় নি। আপনি বলছেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে। দু’জন পুলিশ অফিসার পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রামের বুথে ঢুকে আমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাড়ি যান। ভোট দিতে হবে না।’ আজ সেই পুলিশ নিয়েই ভোট দেওয়ার অভয় দিতে এসেছেন?’’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাস, ‘‘যা ঘটেছে বাদ দিন। এ বার সবাই বুথে যান। ভোট দিন নির্ভয়ে। কিছু হলে আমায় জানান।” এক পুলিশ অফিসার মোবাইল নম্বর চাইতেই সেই বৃদ্ধের জবাব, ‘‘আপনাদের বিশ্বাস করতে এখন সত্যিই ভয় হয়।’’ পাশ থেকে আর এক জন জানতে চান, ‘‘ও স্যর, এ বারে সত্যিই ভোটটা দিতে পারব তো?’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

আশঙ্কার কথা জানিয়ে জঙ্গিপুর লোকসভা নির্বাচনে এ বার সরব হয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপির নেতা-কর্মীরাও। জঙ্গিপুরের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের সঙ্গে  সর্বদলীয় বৈঠকে গত মঙ্গলবার জঙ্গিপুরের নির্বাচন নিয়ে গ্রামে গ্রামে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। 

কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট আশিস তেওয়ারির অভিযোগ, “যে গ্রামেই যাচ্ছি সেখানে একটাই প্রশ্ন,  ‘ভোটটা দিতে পারব তো?’ রাতে দল বেঁধে শাসকদলের কর্মীরা বাড়ি বয়ে শাসিয়ে যাচ্ছে। আমরা শুরু থেকে বার বার নির্বাচন কমিশনের কাছে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের অপসারণের দাবি করেছি। জানিয়েছি, এই প্রশাসনের অধীনে নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়। নাম জমা দিয়েছি অফিসারদের। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী করেছিলেন তাঁরা সব জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।”

সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ও নির্বাচনী এজেন্ট সোমনাথ সিংহ রায়ের অভিযোগ, “ভোটারদের ভয় কাটাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গ্রামে গ্রামে রুট মার্চ করার কথা। এখনও পর্যন্ত নব্বই শতাংশ গ্রামেই তাদের পা পড়েনি।”

একই অভিযোগ বিজেপির উত্তর মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি সুজিত দাসেরও। তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে সব এলাকায় ভোট হয়নি, পুলিশের মদতে গুন্ডামি হয়েছে সেগুলি সবই স্পর্শকাতর বুথ। অথচ তা করা হয় নি। ফলে সেই সব বুথে ভোট হবে রাজ্য পুলিশের পাহারায়। সবটাই জানানো হবে নির্বাচন কমিশনে।”

তৃণমূল বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ। জঙ্গিপুরের প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও দলের মহকুমা সভাপতি বিকাশ নন্দ  বলেন, “বিরোধীদের কোনও জনবল নেই। প্রচারে গিয়েও লোক পাচ্ছে না। তাই তাঁরা আতঙ্কের গল্প শোনাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য ফোর্স কেন, স্বয়ং নির্বাচন কমিশনার এসে জঙ্গিপুরে বসে থাকলেও তৃণমূলের জয় কেউ আটকাতে পারবে না।’’ 

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত