সেটা ছিল ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের মাসখানেক আগের কথা। নবদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসে প্রথম প্রকাশ্য সভায় মুখ্যমন্ত্রী নবদ্বীপকে হেরিটেজ শহর হিসাবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করে ছিলেন। বছরখানেক পর ২০১৭ সালে ফের মায়াপুরে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বার এরাজ্যে বিনিয়োগের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার অ্যালফ্রেড ফোর্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিনিময়ে মায়াপুরে একটি ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম সেন্টার তৈরি করতে রাজ্যের সাহায্য চেয়েছিলেন ইস্কন কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার এ কাজে সাহায্য করবে। এর তেইশ মাসের মাথায় নদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানতে চাইলেন, মায়াপুরে সেই কাজ কতদূর এগোল?

 ২০১৬ সালে  নবদ্বীপকে ‘হেরিটেজ সিটি’ ঘোষণা করার পরে প্রায় তিন বছর কেটে গেলেও কাজের অগ্রগতি দেখে খুশি হননি মুখ্যমন্ত্রী। নবদ্বীপ ও মায়াপুর হেরিটেজ সিটি গড়ার কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, সমীক্ষার কাজ কিছুটা বাকি আছে। জবাবে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, “এক বছরের উপর হয়ে গেল মায়াপুরকে হেরিটেজ সিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমি কোনও কথা শুনতে চাই না। এই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।” এর পর তিনি নবদ্বীপ ও মায়াপুরে হেরিটেজ সিটি তৈরির কাজ ফেলে না-রেখে দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন। 

একই সঙ্গে মায়াপুরে ইস্কন যে আরবান সিটি তৈরি করতে চাইছে ইস্কনের নিজস্ব জমিতে সেটা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে তা নিয়ে তিনি জেলাশাসককে রিপোর্টও দিতে বলেন। পাশাপাশি মায়াপুরে ওই সিটি হওয়ার পক্ষে তাঁর নিজের সমর্থনের কথাও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানতে চান, “ওদের হাতে যে জমি আছে তা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে কোনও সমস্যা আছে কি? অনুমোদন দিলে কিছু সমস্যা হবে?” প্রাথমিক ভাবে তাঁকে জানানো হয়, কোনও সমস্যা হবে না। তখন তিনি বলেন “কাজটা হলে ব্যবসা বাড়বে, দোকান বাড়বে। চাকরি হবে।” এর পরই তিনি জেলাশাসককে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন।

২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মায়াপুরে এলে ইস্কনের তরফে ‘শ্রীচৈতন্য কালচারাল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার’ নামে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকে সেই প্রকল্পের অগ্রগতির খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্প প্রসঙ্গে ইস্কনের বিশ্ব আধ্যাত্মিক মুখ্যকেন্দ্র মায়াপুরের চিফ কোঅর্ডিনেটর জগদার্তিহা দাস জানান, “আমার একটা বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট পর্যটন দফতরের কাছে জমা দিয়েছি। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কাজ ঠিকঠাক এগোচ্ছে।’’ মায়াপুর ইস্কনের তরফে অলয় গোবিন্দ দাস বলেন, “ওই প্রকল্পটি প্রায় ৬০০ একর জমির উপর গড়ে উঠবে। সে জন্য জমিও তৈরি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, এই বিরাট কর্মযজ্ঞে যদি তিনি জমির রেজিস্ট্রেশন ফি কিছুটা মুকুব করেন তা হলে খুব ভাল হয়।”