বামফ্রন্টকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে  মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য তিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, পরে তিনি বুঝতে পারেন, চোর তাড়াতে গিয়ে ডাকাত ডেকে এনেছেন। এখন তাই সেই ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ করতে তিনি গোটা বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন বিজেপি নেতা
মুকুল রায়।

নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জের ফকিরতলায় কৃষ্ণ দেবনাথের স্মরণসভায় সোমবার এসেছিলেন মুকুল। গত ৫ জুলাই কৃষ্ণ খুন হন। তাঁকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে বিজেপি। তাদের আরও দাবি, ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য তাঁকে খুন করা হয়েছে। প্রতিবাদে মৃতদেহ নিয়ে পথ অবরোধ, থানা ঘেরাও এমনকি, স্বরূপগঞ্জে বন্‌ধ পর্যন্ত পালন করেছে তারা।

সোমবার সেই কৃষ্ণ দেবনাথের স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মুকুলবাবু। ভিড়ে ঠাসা সভায় প্রায় পঁচিশ মিনিট বক্তৃতা করেন তিনি। বলেন “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাতে আমরা ভেসে গিয়েছিলাম। আমরা ভুল করেছিলাম টাটাকে আসতে না-দিয়ে। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিলাম। কর্মসংস্থানহীন  বাংলার চারপাশে এখন কালো ছায়া। এই জন্যই কি নিজেদের জীবন-যৌবন বাজি রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম? সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই সারা বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। পরিবর্তনের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে।”    

যা শুনে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, ‘‘উনি বরং মাথা মুড়িয়ে হাতে গদা নিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করুন।’’

কয়েক দিন বাদেই একুশে জুলাইয়ের সভা। সোমবার কলকাতায় সেই সভার মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে খুঁটিপুজো দিয়ে। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে মুকুল বলেন, “একুশের সভা এখন জলসায় পরিণত হয়েছে। টলিউডের লোকজন সামনে বসে থাকেন। ২০১১ সালে মঞ্চে পাগলু নাচ হয়েছে।” এর পাল্টা পার্থবাবুর বক্তব্য, ‘‘শহিদ দিবসকে যাঁরা ‘জলসা’ বলেন তাঁদের কতটা অধঃপতন হয়েছে, তা বোঝা যায়।’’

ভাটপাড়া-কাঁকিনাড়ায় গোলমাল বা হালিশহর, কাঁচরাপাড়ায় তৃণমূলীদের ঘরে ফেরা প্রসঙ্গে  মুকুল রায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হার মেনে নিতে পারছেন না। তাই অশান্তি করছেন। অর্জুন সিংহ সবে এক মাস হল সাংসদ হয়েছেন। একটু সময় দিন, সব ঠিক হয়ে যাবে।”