• সম্রাট চন্দ ও সৌমিত্র সিকদার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সরতে চলেছেন তিন দশকের পুরপ্রধান

TMC
প্রতীকী ছবি।

এক জন ৩০ বছরের পুরপ্রধান, অপর জন ২৫ বছরের। তবে এ মাসে মেয়াদ শেষের পর তাঁরাই হতে চলেছেন প্রাক্তন।

 বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন যে আর পুর নির্বাচন হচ্ছে না তা স্পষ্ট। কাজেই জেলার যে আটটি পুরবোর্ডের এই মে মাসে মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সেখানে বসতে চলেছেন প্রশাসক। রানাঘাট এবং শান্তিপুর পুরসভা, যাদের উদাহরণ টেনে দীর্ঘদিন দক্ষিণপন্থীরা বলে এসেছেন এটা রাজ্যে প্রায় সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের জবাব, সেখানকার দীর্ঘদিনের পুরপ্রধানেরাও হতে চলেছেন প্রাক্তন। 

কুপার্স, বীরনগর, কৃষ্ণনগরের মতো বাম আমলেও রানাঘাট মহকুমার এই দুই শহরে দাপটের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস। ১৯৯০ সালে শান্তিপুরের পুরপ্রধানের আসনে বসেন অজয় দে। তার কয়েক বছর আগেই খুন হয়েছিলেন দাদা অসমঞ্জ দে। সেই ব্যাটন হাতে নিয়েই দৌড় শুরু। ১৯৯০ সালে শান্তিপুরের পুর বোর্ডের ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। বিদ্যুৎ পর্ষদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরপ্রধান হন অজয় দে। পরের বছরেই বিধায়ক। টানা প্রায় আড়াই দশক কংগ্রেসের পুরপ্রধান এবং বিধায়ক থাকার পর ২০১৩ সালের শেষের দিকে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। ২০১৪ সালে বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে উপনির্বাচনে দাঁড়ান তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে। জিতেও যান। এরপরে ২০১৫ সালের পুরভোটে জয়ী হন। শান্তিপুরে প্রথম বোর্ড গড়ে তৃণমূল। তবে ধাক্কা খেতে হয় পরের বছর। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্যের কাছে হেরে যান অজয়। বিধায়ক হিসাবে পঁচিশ বছরের দৌড়টা শেষ হলেও রয়ে গিয়েছিলেন পুরপ্রধান পদে। তবে এ বার পুরপ্রধান পদে তিরিশ বছরের অধ্যায়ে ছেদ পড়তে চলেছে এই মাসেই। এই সপ্তাহেই শান্তিপুর পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে ১৫ মে পুরসভার বোর্ড কাউন্সিলের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে যে সমস্ত সাফাইকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের মতো কর্মীরা কাজ করছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাব পাশ হয়।

একই ভাবে নয়ের দশকে রানাঘাটেও বামপন্থীদের পিছনে ফেলে কংগ্রেসের এগিয়ে যাওয়া শুরু। ১৯৯৫ সালে রানাঘাটের পুরবোর্ড আসে কংগ্রসের হাতে। পুরপ্রধান হন রানাঘাটে দক্ষিনপন্থী রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ছেলে পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। তারও পাঁচ বছর আগে থেকেই কাউন্সিলার তিনি। তখন অবশ্য ছিল বামেদের বোর্ড। পরের বছরের বিধানসভা ভোটে তৎকালীন রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় জয়ী হয় কংগ্রেস। বিধায়ক হন শঙ্কর সিংহ। ২০০৬ সালের ভোটে অবশ্য বিধানসভায় হেরে যান কংগ্রেসের শঙ্কর সিংহ। তবে পুরবোর্ড তখনও কংগ্রেসের। ২০০৯ সালের শেষের দিকে একাধিক কাউন্সিলার নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পার্থসারথী। ২০১১ সালে হন তৃণমূলের বিধায়কও। ২০১০ এবং ২০১৫ দু’টি পুরভোটেই রানাঘাটে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। পুরপ্রধান পার্থসারথীই। এর মাঝে পাঁচ বছরের জন্য বিধায়ক। তবে শান্তিপুরের অজয়ের মতো ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী শঙ্কর সিংহের কাছে হেরে যান পার্থসারথী। তবে রয়ে গিয়েছিলেন পুরপ্রধান। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা পঁচিশ বছর। নির্বাচন না হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে সেখানে প্রশাসক বসতে চলেছে। তবে পুরপ্রধান পদ থেকে সরতে হলেও অজয় ও পার্থসারথীকে প্রশাসক করা হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

পার্থসারথী বলেন, “কাজ করতে গিয়ে অনেকের ভালবাসা পেয়েছি। তবে সবাইকে তো খুশি করা যায় না। আমাদের শহরে যা সমস্যা ছিল, সেগুলি সাধ্য মতো মেটানোর চেষ্টা করেছি। এখন আমাকে যা দায়িত্ব দেওয়া হবে তা পালন করব।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন