সবে মুকুল এসেছে লিচু গাছে। আর সেই লিচু গাছের দখল কে নেবে তা নিয়ে বিবাদ চলছি বেশ কিছু দিন ধরেই। আর তার জেরেই বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে চড়াও হয়ে হাঁসুয়া দিয়ে দাদাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ফরাক্কার হাউসনগরের ওই ঘটনায় নিহতের নাম ফিরোজ শেখ (৪৪)। ঘটনার পরে অভিযুক্ত ডালিম শেখ পালিয়ে যায়। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মুর্শিদাবাদে গণ্ডগোল কিংবা খুন অত্যন্ত চেনা ঘটনা। শম্ভুনগরে বেড়া টপকে মুরগি চলে গিয়েছিল পড়শির বাড়িতে। তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে মুরগির পায়ে চোট লাগে। সেই নিয়ে খুন হন এক জন। নসিপুরেও এক বাড়ির মুরগি গিয়ে ডিম পেড়েছিল পাশের বাড়িতে। তা নিয়েও তুলকালাম। শেষতক খুন।

বিশ্বাসপাড়ায় নলকূপের জল কোন দিক দিয়ে যাবে তা নিয়েও গণ্ডগোলের জেরে খুনের ঘটনা ঘটে। কুপিলাতেও জমির আলে পড়া এক সজনে গাছের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে খুন হন এক প্রৌঢ়। মাস কয়েক আগে রানিনগরের তেজসিংহপুরে কয়েকটি সজনের ডাঁটা নিয়ে বিবাদ, গণ্ডগোল, হাসপাতাল, থানা, পুলিশ—বাদ যায়নি কিছুই। এ বার হাউসনগরের খুন জানান দিল, মুর্শিদাবাদ আছে মুর্শিদাবাদেই।  

পুলিশ জানিয়েছে, ফিরোজ ও ডালিম দুই ভাইয়ের বাড়ি পাশাপাশি। লিচুর বাগান নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ চলছিল। এ দিন সকালে ফিরোজ নিজের বাড়ির ছাদে পায়চারি করছিলেন। তখন ডালিম সেখানে গিয়ে হাজির হয়। শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, আচমকা ডালিম তার হাতে থাকা হাঁসুয়া নিয়ে চড়াও হয় দাদার উপরে। এলোপাথাড়ি কোপে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফিরোজ।

ফিরোজের এক আত্মীয় মনিরুদ্দিন আহমেদ জানান, ফিরোজের বাবা মনসুর আলি মারা গিয়েছেন বছর দেড়েক আগে। বাড়ি থেকে দু’কিলোমিটার দূরে ঝাড়খণ্ডের নতুন আমতলা গ্রামে ১৮ কাঠা জমির উপরে একটি লিচুবাগান রয়েছে তাঁদের। অবিবাহিত ফিরোজই সেখানে লিচুর বাগান তৈরি করেন।

ফিরোজের মা শেফালি বেওয়া বলছেন, ‘‘দুই ভাইয়ের অশান্তি যাতে না হয় তা নিয়ে সালিশি সভা বসেছে গ্রামে। রবিবার মেয়ে-জামাইদের ডেকে এনে বিরোধ মেটানোর কথা ছিল। তার আগেই তো এক জন চলে গেল।”

এই খুনের মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ফিরোজের খুড়তুতো ভাই ফটিক শেখ। তিনি জানান, ফিরোজ লিচু বাগানের দেখভাল করত। এ বছর গাছে ভাল মুকুল এসেছে। ডালিম ফিরোজকে কিছু না জানিয়ে সেই বাগানটি এক বছরের জন্য অন্য এক জনকে লিজ দিয়ে দেয়। এই নিয়েই অশান্তি চলছিল।

ফিরোজ বলছেন, ‘‘শুধুমাত্র এই কারণেই যে ডালিম এমন কাণ্ড করতে পারে, ভাবতেও পারছি না।” ফরাক্কার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘খুনে অভিযুক্ত ভাই পালিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’