ছ’দিন আগে সরকারি কর্মীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। আর সেই সরকারি কর্মীই মঙ্গলবার রাতে দিব্যি দরজায় এসে কড়া নাড়লেন,  মুক্তিপণ ছাড়াই। 

তাঁর বয়ানে— গভীর রাতে বহরমপুরের চরমহুলা গ্রামের কাছেই একটি গাড়ি তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যায়। পুলিশকে জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ অপহরণকারীরা তাঁকে গাড়ি করে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তবে এ জন্য কোনও মুক্তিপণ দিতে হয়নি। কোথায় ছিলেন? আলগোছে একটা জায়গার নামও বলেছেন তিনি—  ভগবানগোলা। কিন্তু তার বেসি জানাতে পারেননি। পুলিশের এক কর্তা বলছেন, ‘‘জানাতা পারলেন না না ভাঙলেন না, ভেবে দেকা হচ্ছে সেটাই।’’ 

বস্তুত, এমন আরও বেশ কিছু না মেলা উত্তরের আশায় বুধবার ওই সরকারি কর্মী অঙ্কুর সরকারকে জেরাও করে পুলিশ। তাঁর উত্তরে যে তেমন মন ভরেনি, তা খোলসা করছেন খোদ জেলা পুলিশ সুপারও। তিনি বলেন, ‘‘অনেক কিছুই অস্পষ্ট। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’’

 কোনও একটি এলাকায় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভগবানগোলার ঠিক কোথায়, কারা আটকে রেখেছিল তা জানাতে পারেননি। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলছেন, ‘‘ওঁর কথাগুলি যাচাই করা হচ্ছে। তিনি সত্যিই অপহৃত হয়েছিলেন? না অন্য কিছু ঘটেছিল সে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

বুধবার সকালেই বহরমপুর থানার পুলিশ অঙ্কুরকে ডেকে পাঠিয়েছিল। দিনভর পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে। এ দিন অঙ্কুর পুলিশকে জানিয়েছেন, সে দিন সন্ধ্যায় তিনি মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বহরমপুরের উত্তরপাড়া ও বাসুদেবখালির কাছে এক দল অপরিচিত লোক তাঁর পথ আটকায়। এর পরে জোর করে তাঁকে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে দেয়। ফাঁকা জায়গা হওয়ায়, চিৎকার করেও লাভ হয়নি। পরে তাঁকে ভগবানগোলার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, অপহরণকারীরা তাঁকে বলেছিল ব্লক অফিসের কাজের কাগজপত্রে কেন সই করিসনি? সই করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁকে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে নামিয়ে দেয় তারাই। এর পরে বাড়ির লোকজনকে অঙ্কুর ফোন করে ডেকে তাঁদের সঙ্গে বাড়ি ফেরেন। পুলিশ এখনও অঙ্কুরের মোটরবাইকটি উদ্ধার করতে পারেনি। 

পুলিশ জানতে পেরেছে অপহরণের ঘটনার পর তিন দিনে বেলডাঙা, সারগাছি ও বহরমপুরের স্বর্ণময়ী এলাকার এটিএমে অঙ্কুরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৪১ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। অঙ্কুর পুলিশের কাছে দাবি করেছে, অপহরণকারীরা তাঁর এটিএম কার্ড নিয়ে পিন নম্বর জেনে টাকা তুলে নিয়েছে। 

ভগবানগোলা এলাকায় তাঁকে আটকে রেখে অপহরণকারীরা কেন বহরমপুর ও বেলডাঙার এটিএম থেকে টাকা তুলে নিল, তা বহরমপুর থানার পুলিশকে ভাবাচ্ছে। তাই বৃহস্পতিবার ফের অঙ্কুরকে বহরমপুর থানায় ডাকা হয়েছে। তবে মুক্তিপণ ছাড়াই তাঁকে অপহরণকারীরা কেন ছাড়ল, কেনইবা তাঁর উপর অত্যাচার করেনি সে সবের প্রশ্ন হাতড়াচ্ছে বহরমপুর থানার পুলিশ।