ফাগুনের আগেই আগুনের গ্রাসে গ্রাম-শহর। এমন আঁচ পড়েছে বেলডাঙা এলাকাতেও।

কোথাও নিঃশব্দে পুড়ে গিয়েছে টালির বাড়ি কোথাও কাঠ চেরাইয়ের কল। পানের বরজ কিংবা প্লাস্টিকেরগুদাম। বিশ থেকে পঁতাল্লিশ মিনিট, দমকল আসার আগেই পুড়ে খাক যাবতীয়। 

জেলার আর পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ জনপদের মতো বেলডাঙাতেও দমকলের কোনও কেন্দ্র নেই। বাইস কিলোমিটার দূরের বহরমপুর থেকে আগুন নেভাতে দমকলের গাড়ি আসতে কম পক্ষে মিনিট চল্লিশের ধাক্কা। অগ্নিস্থল যদি ব্লকের আরও গভীরে হয় তা হলে সময় যে আরও অনেক বেশি বলাই বাহুল্য। তার উপর রয়েছে যানজটের ধাক্কা। বহরমপুর-বেলডাঙা রাজ্য সড়কে দমকলের গাড়ি আটকে গিয়ে দেড় ঘণ্টা থমকে গিয়েছে, এমন নজিরও বিরল নয়।

তাই ‘যদি দমকলকেন্দ্র থাকত’ গোছের হা হুতাশ ঝরে পড়ে অনর্গল। গত সাত দিনে বেলডাঙা শহর ও হরিহরপাড়ায় দু’টো বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দমকল না থাকায় সেখানে সেই বালতির ভরসাতেই আগুন নিভিয়েছেন পড়শি ও পুলিশ। 

কোথাও বা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়েছে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া কাঠ চেরাই কল কিংবা মণিহারি দোকান। দিন কয়েক আগে, ওই কাঠ চেবাই কলে গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনা প্রথম নজরে আসে প্রহরারত সিভিক ভলান্টিয়ারেরা দেখতে পেয়ে খবর দিয়েছিলেন পুলিশে। ফোন 

গিয়েছিল দমকলে। 

কিন্তু বহরমপুরে সেই মূহুর্তে দমকলের কোনও ইঞ্জিন নেই বলে জানিয়ে দেওয়ায় শেষষতক সাহায্য চাওয়া হয় পড়শি জেলা নদিয়ার কৃষ্ণনগর দমকল কেন্দ্রের কাছে। সেই দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই পুড়ে শেষ হয়ে যায় ওই কাঠ চেরাই কল। শীতের সে রাতে কাঁপতে কাঁপতে বালতি বালতি জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুলিশ কর্মীরাই। হরিহরপাড়ার গোবিন্দপুর এলাকায় আগুন লেগে পুড়ে যায় দু’টো বাড়ি। দুই পড়শি আইনুদ্দিন শেখ ও মইনুদ্দিনের বাড়ির আগুনও নিভেছিল পড়শিদের ঝাঁপিয়ে পড়া সাহায্যেই। তবে বাড়িতে রাখা আসবাব, নগদ টাকা  গোয়ালের গরু— পুড়ে খাক হয়ে সে দু’টি পরিবারেরই আক্ষেপ, ‘‘বেলডাঙায় দমকেন্দ্র থাকলে এমনটা হত না।’’

বেলডাঙা মেছুয়া বাজার লাগোয়া বাড়িতেও আগুন লেগেছিল দিন কয়েক আগে, দোতলা সেই বাড়ির আগুন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। তাতে জল দেওয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। পরে অগ্নি নিবার্পন‌ যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। দমকল যখন আসে তখন অনেক সময় কেটে গিয়েছে। স্থানীয় মানুষ দমকল ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। কর্মীরা জানান সদর শহর বহরমপুর থেকে বেলডাঙা আসতে দু’টো রেল গেট পার করতে হয়। জাতীয় সড়কে যে রেলগেট সেটা পার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে তার জেরে দেরি।

নওদার সমস্যা আরও বেশি। বহরমপুর থেকে সে শহরের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। নওদা এবং তার লাগোয়া এলাকায় প্রচুর পানের বরজ রয়েছে। কখনও বিড়ির আগুন কখনও রান্নার আগুন লেগে বিঘার পর বিঘা পানের বরজ পুড়েছে, এমন ঘটনা ফি বছর ঘটে। পথে বসেছে পানচাষি। 

নওদার বিডিও কৃষ্ণগোপাল দাস বলেন, ‘‘এই সময় ঝড়ের গতিতে বাতাস বয়। আগুনও সেই গতি মেনে চলে। সদর বহরমপুর থেকে নওদা দীর্ঘ রাস্তা। আগুন লাগার খবর পৌঁছনোর পর দমকল আসতে এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগে। তার পরে আর কিছু করার থাকে না।’’