• নিজস্ব সংবাদদাতা 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ক্রীড়া সংস্থার মিটে চট দিয়ে ঘিরে হল শৌচাগার

Toilet
চট দিয়ে ঘিরে এভাবেই অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। নিজস্ব চিত্র

মুর্শিদাবাদকে নির্মল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে গ্রামেগঞ্জে শৌচাগার তৈরি করা হচ্ছে। অথচ জেলায় খেলাধুলোর প্রধান কেন্দ্র বহরমপুর স্টেডিয়ামেই শৌচাগারের কোনও সুব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। গত শনি এবং রবিবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল ওই স্টেডিয়ামে। সেই সময় প্রতিযোগীদের এ নিয়ে তীব্র সমস্যায় পড়তে হয়। 

সূত্রের খবর, বহরমপুর স্টেডিয়ামে শৌচাগারের পাশাপাশি এবং পানীয় জলের তীব্র সমস্যা রয়েছে। স্টেডিয়ামে একটিই শৌচাগার রয়েছে। সাধারণত সেটি স্টেডিয়ামের কর্মী এবং কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৯২টি ইভেন্টে মোট  ৫৩৭ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন মহিলা। শৌচাগার নিয়ে তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। একপ্রান্তে, অস্বাস্থ্যকর জায়গায় চট দিয়ে ঢেকে অস্থায়ী শৌচালয় গড়া হয়েছিল। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সেখানেই যেতে বাধ্য হন মহিলারা। জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা অ্যাথলিটরা এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্টেডিয়ামে পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে উঁচু পাঁচিল, সুদৃশ্য গেট  তৈরি হচ্ছে। অথচ, প্রতিযোগীদের ব্যবহারের জন্য স্থায়ী শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। কান্দি থেকে আসা প্রতিযোগী সুলগ্না ঘোষের ক্ষোভ, ‘‘খোলা জায়গায় চট দিয়ে ঘিরে শৌচাগার। সেখানে যেতেও লম্বা লাইন পড়ছিল। খুবই অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছিল আমাদের।’’ আরেক প্রতিযোগীর ক্ষোভ, ‘‘জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় এমন অব্যবস্থা দেখে অবাক হয়ে গেলাম।’’ 

 আয়োজক সংস্থার অ্যাথলেটিক্স সচিব প্রবীর ভদ্রেরও অভিযোগ, ‘‘স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ আসেন। শৌচাগার নিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে আগেও। বিশেষত, অ্যাথলেটিক্স মিটের সময় এই সমস্যা আরও বেশি করে হয়। পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে।’’ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভাদুড়ীও শৌচাগার নিয়ে অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিযোগীর সংখ্যা বেশি ছিল। স্টেডিয়ামের নিজস্ব শৌচাগার সকলকে ব্যবহার করতে হলে সমস্যা হত। সেই জন্যই চট দিয়ে ঘিরে অস্থায়ী ভাবে ওই শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ফাইবারের ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারের ব্যবস্থাও তো করা যেত? এ নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘পুরসভার ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারটি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বলে কিছুদিন আগে শুনেছিলাম। তবে সম্প্রতি এ নিয়ে খোঁজখবর করা হয়নি।’’ 

প্রশাসন সূত্রের খবর, স্টেডিয়াম দেখভাল করে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে জেলাশাসক পি উলাগানাথনকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘স্টেডিয়ামে শৌচাগার নিয়ে সমস্যার কথা কানে এসেছে। স্থানীয় পুরসভার তরফে শৌচাগার তৈরি করে দেওয়া হবে।’’ বহরমপুর পুরসভার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘স্টেডিয়ামে শৌচাগার ও পানীয় জলের সমস্যার কথা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারা জানিয়েছেন। সমস্যা মেটানোর জন্য আমরা উদ্যোগী হচ্ছি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন