ধীরে ধীরে শারীরিক উন্নতি হচ্ছে কান্দির হিজলে গুলিবিদ্ধ, একাদশ শ্রেণির ছাত্র ওসমান শেখের। পরিবার এবং হাসপাতাল সূত্রের খবর, বর্তমানে সে পায়ে ভর দিয়ে অল্পস্বল্প হাঁটতে পারছে। ওসমানকে গুলি চালানোর ঘটনায় এক অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা প্রধান অভিযুক্ত রিপন শেখ।

অভিযোগ, গত রবিবার রাতে কান্দি থানার হিজল অঞ্চলের বেণীপুর গ্রামের বাসিন্দা, কংগ্রেস সমর্থক খান বাহাদুর খানের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছিল রিপন এবং ধৃত আব্দুল শেখ। বোমার আওয়াজে বাড়ির বাইরে বেরোয় ওসমান। সে হামলাকারীদের ধরতে গেলে আব্দুল পালায়। তবে রিপনকে জাপ্টে ধরে ফেলে ওসমান।

নিজেকে ছাড়াতে না পেরে রিপন ওসমানের পায়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তারপর থেকেই সে গ্রামছাড়া। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় রিপনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।

 এদিকে, ঘটনার পর বাহাদুর শেখ কান্দি থানায় রিপন ও আব্দুলের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই রাতেই গ্রেফতার হয় আব্দুল। তবে রিপন এখনও ধরা পড়েনি। মঙ্গলবার আব্দুলকে কান্দির এসিজেএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতের কাছে ধৃতের 

পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। যদিও বিচারক শেষ পর্যন্ত তার তিন দিনের 

পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে 

হামলার ঘটনার কারণ নিয়ে ধন্দে পুলিশ। বাহাদুর খানের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, নাকি গ্রামীণ বিবাদের জেরে এই ঘটনা, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। পারিবারিক বিবাদের জেরেই 

ঘটনা ঘটেছে। 

কান্দি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার বলেন, “লোকসভা ভোটেও আহত ছাত্রের বাবা আমাদের দলের প্রার্থীর হয়ে খেটেছিলেন। কান্দিতে উপনির্বাচনের আগে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলেই 

জানতে পারবে, আগ্নেয়াস্ত্রটি আসলে কার কাছে ছিল। ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।’’ যদিও বাহাদুর খানের দাবি, ‘‘তৃণমূলের মদতেই গোটা ঘটনা ঘটেছে। নইলে মূল অভিযুক্তকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করছে না কেন! বোমা পড়ল আমার বাড়ির সামনে, গুলিবিদ্ধ হল আমার ছেলে, আর পুলিশ কি না পাহারা দিচ্ছে অভিযুক্তের বাড়ি। আর আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। হাসপাতালে ছেলেকে যে দেখতে যাব, তা-ও পারছি না।।’’ খান বাহাদুরের দাবি, কান্দিতে উপনির্বাচনে দিন বেণীপুরে তৃণমূল বুথ দখল করতে গেলে তিনি বাধা দিয়েছিলেন। সেই রাগেই তাঁদের উপর হামলা হল।

 স্থানীয় থানার পুলিশ জানিয়েছে, রিপনের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। খুব শীঘ্রই সে 

ধরা পড়বে।