অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমি-জটিলতা কাটিয়ে নশিপুর রেল সেতু চালু হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। জমি-জটের কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে থমকে রয়েছে নশিপুর রেল সেতুর শেষ পর্যাযের কাজ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার পূর্ব রেলের শিয়ালদহ শাখার আধিকারিকদের হাতে ওই জমি হস্তান্তরের সমস্ত নথি তুলে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, ‘‘সেতু নির্মাণের পরে তা চালু হওয়া জেলার স্বার্থে যে অত্যন্ত জরুরি, দেরিতে হলেও জমিদাতারা বুঝেছেন। ওই সেতু চালু হলে জেলার অর্থনীতি আমূল বদলে যাবে। ফলে জমিদাতারা স্বেচ্ছায় তাঁদের জমি লিখে দিয়েছেন। আমরা সেই সমস্ত কাগজপত্র রেল দফতরের হাতে তুলে দিয়েছি। শেষ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত সেতু চালু করার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না।’’ জমিদাতাদের অন্যতম মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল, লক্ষ্মণ মণ্ডলদের কথায়, ‘‘রেল দফতর আমাদের চাকরি ও ক্ষতিপূরণের দাবি মেনে নেওয়ায় আমরাও জমি দিতে রাজি হয়েছি।’’    

গত ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ওই রেল সেতুর শিলান্যাস করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে ২০০৬ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় ২০১০ সালের এপ্রিলে সেতু উদ্বোধন হবে বলে রেল দফতর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে আজিমগঞ্জের দিকে মুকুন্দবাগ পঞ্চায়েতের দুটি মৌজা চর মহিমাপুর ও মাহিনগর দিয়াড়ে মোট সাড়ে সাত একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চরমহিমাপুর মৌজার ৪.৪৪৫০ একর এবং মাহিনগর দিয়ার মৌজার ৩.১৪০০ একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার জেরে সেতুর শেষ পর্যায়ের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জেলা ভূমি অধিগ্রহণ দফতরের এক আধিকারিক জানান, শুরুতে চরমহিমাপুরের ১৬২ জন এবং মাহিনগর দিয়ারের ১২০ জন-সহ মোট ২৮২ জন জমিদাতার নামের তালিকা তৈরি হয়। পরে জমিদাতার সংখ্যা বেড়ে যায়। বর্তমানে জমিদাতার সংখ্যা প্রায় চারশো জন মত।

পরে অধীর চৌধুরী রেলমন্ত্রী হওয়ার পরে ওই রেল সেতু চালুর ব্যাপারেও উদ্যোগী হন। মূলত তাঁরই উদ্যোগে জমিদাতাদের নিয়ে বেশ কয়েক দফায় বৈঠকও হয়। কিন্তু ওই জমি-জট কাটানোর চেষ্টা হলেও জমি দাতারা রাজি না হওয়ায় সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। তখন আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চাকরি দিতে হবে বলেও জমিদাতারা দাবি তোলেন। শেষ পর্যন্ত ‘জমির প্লট পিছু একজনকে’ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় রেলওয়ে বোর্ড। তার পরেই জমিদাতারা জমি দিতে ইচ্ছুক হন। সেই মতো জমি দাতাদের কাছ থেকে লিখিয়ে নিয়ে পূর্বরেলের শিয়ালদহ শাখার পক্ষে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের হাতে জমির সমস্ত কাগজপত্র তুলে দেয় জেলা প্রশাসন।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘ইংরেজ আমলে হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের মধ্যে রেল সংযোগ ছিল। কিন্তু ওই সেতু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রেল সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়। তখন নতুন করে রেল সেতু নির্মাণের জন্য তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে অনুরোধ করি। তিনি ওই অনুরোধ মেনে ২০০৪ সালের নভেম্বরে সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও তিনি হাজির ছিলেন।’’ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই রেল সেতু নির্মিত হলেও ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে আজিমগঞ্জের দিকে সেতুর সংযোগকারী রাস্তা তৈরির জন্য প্রায় সাড়ে সাত একর জমির প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ব্যক্তি-মালিকানায় থাকা ওই জমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেয়।

রেল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের বিশেষ আইনে ওই জমির মালিকদের চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে, ওই সাড়ে সাত একর জমি রেল দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্লট পিছু জমিদাতাদের নামের তালিকা তৈরি করে দেওয়ার। পূর্বরেলের শিয়ালদহ শাখার এক কর্তার কথায়, ‘‘এ বারে সেতু চালুর ব্যাপারে আর কোনও বাধা থাকল না।’’

 ঘরে বসেই। আবার হাতে ধরে জিনিস না দেখে, শুধু ছবি দেখে কেনাকাটায় নারাজ অনেকেই। ফলে পুজো বাজারেও এখন টু-লাইনস। কেউ ঘরে। কেউ ঘুরে ঘুরে।