অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কেমন চলছে— শনিবার তা খতিয়ে দেখতে বেরিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। কোথাও গিয়ে শুনলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবন নেই। ঘুপচি ঘরে ক্লাস চলছে। কোথাও গিয়ে শুনলেন, বিদ্যুৎ নেই। কোথাও আবার শৌচাগার নেই, কোথাও আবার প্রশাসনের কর্তাদের কাছে পেয়ে পানীয় জলের সমস্যার কথা জানালেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকারা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সমিতির জেলা কমিটির সদস্য আসুরা খাতুন বলছেন, ‘‘জেলা জুড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোর বড়ই অভাব। বেশিরভাগ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। অর্ধেক জায়গায় নিজস্ব ভবন নেই। অনেক কেন্দ্রে রান্নাঘর, পানীয় জল, শৌচালয়ের সমস্যা রয়েছে। আমরা চাই সরকার এ বিষয়ে নজর দিক।’’

মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলছেন, ‘‘সরকারি প্রকল্প যাতে ঠিক মতো চলে সে জন্য জেলা জুড়ে স্কুলে মিডডে মিল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখা হয়েছে। আধিকারিকদের সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে যে ঘাটতি বা সমস্যা উঠে আসবে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে ৯ হাজার ৭৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অনুমোদন রয়েছে। তার মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৪ টি চালু রয়েছে। জেলার সব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ লক্ষ প্রসূতি ও শিশু সুবিধা পায়। সূত্রের খবর, তার মধ্যে ৪ হাজার ৬৭৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। প্রায় পৌনে দুশোটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়া বাড়িতে চলে। বাকিগুলি কোথাও সরকারি ভবনে, কোথাও ক্লাবঘরে, কোথাও কারও বাড়ির বারান্দায়, কোথাও প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে চলে। কোথাও কোথাও পানীয় জল থেকে শৌচালয়ের সমস্যা রয়েছে। ফলে প্রসূতি ও শিশুদের বসার জায়গার যেমন সমস্যা হয়, তেমনি গরমেও ঘাম ঝরতে থাকে।

বেলডাঙা ১ ব্লকের পুলিন্দা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। ওই কেন্দ্রটি সহায়িকার বাড়ির বারান্দায় চলে। আবার ওই ব্লকের গঙ্গাপুরের একটি ক্লাবঘরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলে। নিজস্ব ভবন না থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির নিজস্ব ভবন হচ্ছে না কেন? 

প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, নিজস্ব ভবন তৈরির ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হচ্ছে জমি। সেই সমস্যা কাটিয়ে গত বছর ধাপে ধাপে জেলা জুড়ে প্রায় এক হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তার অধিকাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে জমির খোঁজ চলছে। তবে জমি পেতে সমস্যা হচ্ছে।

কেন জমি মিলছে না? 

প্রশাসন সূত্রে খবর, দফতরের পক্ষ থেকে জমি কেনার সংস্থান নেই। অন্য দিকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র যেখানে চলছে সেখানে সরকারি জমি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। যেখানে জমি মিলছে, সেই জমি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে অনেকটা দূরে। ফলে সেখানে ভবন তৈরিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বাধা আসছে। কারণ গ্রামের ছেলেমেয়েরা বা প্রসূতিরা দূরে যেতে পারবেন না।

বেলডাঙার মহুলা সবর্মঙ্গলা ক্লাবের অঙ্গ‌নওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচাগার নেই। ফলে ওই কেন্দ্রের কর্মী ও প্রসূতি মায়েরা পাশের বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করেন। জলের ব্যবস্থা নেই। ফলে দূর থেকে পানীয় ও রান্নার কাজের জল আনতে হয়। বেলডাঙা ১ ব্লকের বিডিও বিরূপাক্ষ মিত্র বলেন, ‘‘জমি মিলছে না। তাই ভবন তৈরি করা যাচ্ছে না। তবে জমির খোঁজ চলছে।’’ তাঁর দাবি, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রায় প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। যেখানে শৌচাগার নেই, সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করে 

দেওয়া হবে। বেলডাঙা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাদের ব্লকে ৪০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ার জন্য টাকা রয়েছে। জমি পাচ্ছি না। তবে বিকল্প জমির খোঁজ করছি।’’