দিনে তৃণমূল এবং রাতে কংগ্রেস— শাসক দলের অন্দরে কান পাতলেই এ কথা শোনা যায়। শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন নয়। সভা করে জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহণমন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মীদের এর আগে সতর্ক করেছেন। এমনকি দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে যে চিড়ে ভেজেনি, তার প্রমাণ শুক্রবার নওদার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে ফের বলতে শোনা গেল, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় দিয়ে কেউ অন্য কোনও দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানায়। তাহলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর নিয়ে রাখুন।’’ দলীয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে, তাঁদের দলে রাখা হবে না বলেও তিনি জানান। 

এর পরেই মঞ্চ থেকে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর জানিয়ে দিলেন তিনি। সেই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর লিখে নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায় এ দিনের সভায় হাজির দলীয় কর্মীদের মধ্যে। তাঁরা নিজেদের মোবাইলে সেই নম্বর দ্রুত ‘সেভ’ করে নেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলছেন, ‘‘দলের মধ্যে থেকে দলবিরোধী কাজ করলেই এ বার সরাসরি দাদাকে জানাতে আর কোনও বাধা থাকল না।’’

নওদা বিধানসভার  উপনির্বাচন উপলক্ষে নওদার আমতলায় ছিল শুভেন্দু অধিকারীর সভা। শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই ভোটে সরকার পাল্টাবে না। মুখ্যমন্ত্রীরও বদল হবে না। ফলে নওদার মানুষ কেন বিরোধীদের ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠাবেন? সেই ভোট তৃণমূলে প্রার্থীকে দিলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘কংগ্রেস ও বিজেপি এই কেন্দ্রে ধর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। তার বিরোধিতা করুন।’’

এ দিন দুপুর তিনটেয় সভা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টারে করে শুভেন্দু অধিকারী এসে পৌঁছন প্রায় ঘন্টা খানেক দেরিতে। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা গরমকে উপেক্ষা করে তাঁর কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই ভিড়কে উদ্দেশ্য করে ‘তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় দিয়ে কেউ অন্য কোনও দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালে তাঁকে জানানোর কথা জানান শুভেন্দু।  জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘উনি এখন নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না। যারা ছায়ার মতো ঘিরে রয়েছে, তাঁদের তিনি বিশ্বাস করেন না, সেটাই তাঁর কথায়বেরিয়ে পড়েছে।’’