অপ্রকৃতস্থ অবস্থা, আদালত চত্বরে নাগাড়ে হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন তিনি— ‘‘কে মারবে আমাকে, কে ধরবে, কোনও পুলিশের ক্ষমতা নেই!’’ প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে আদালতের উঠোন জুড়ে এমনই হইচইয়ের ফল অবশ্য মিলেছে হাতেনাতেই। পাল্টা চড়-কিল-ঘুঁসির পরে সময়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার না করলে অবস্থা অন্য রকম হত। 

তিনি ভগবানগোলা ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি আফরোজ সরকার। ২২ জানুয়ারি ভগবানগোলায় সিপিএমের মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল আফরোজ-সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে। ভগবানগোলার সিপিএম বিধায়ক মহসিন আলির সেই অভিযোগের মামলার হাজিরার দিন ছিল বৃহস্পতিবার। অন্যদের মতো তিনিও এসেছিলেন আদালতে।

অভিযোগ, হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে বসেছিলেন ব্লক সভাপতি ও তার এক অনুগামী রমজান শেখ। সেই সময় রমজান শেখের হাত থেকে একটি আখের লাঠি নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে আদালত চত্বর জুড়ে এমনই হুঙ্কার দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।

জনা কয়েক আইনজীবী তাঁকে গালমন্দ করতে বারণ করেন। তাতে ফল হয় উল্টো। অভিযোগ, আরও অশ্রাব্য ভাষার ফোয়ারা ছোচে তাঁর মুখ থেকে। এর পরেই ক্ষিপ্ত মানুষজন এবং আইনজীবীদের একাংশ তাঁকে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। 

আইনজীবী মাঝিরুল হক বলেন, ‘‘মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ করছিলেন। এমনি হুমকিও দেন, ‘ভগবানগোলায় গেলে পেটাবো। এই বিষয় নিয়ে আমি এসিজিএমকে জানিয়েছি উনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।’’

লালবাগ থানার আইসি শ্যমল বিশ্বাস বলেন, ‘‘ঘটনাস্থল থেকে ওই নেতাকে আমরা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। বিষয়টি এসিজিএম দেখছেন। তবে এবিষয়ে আইনজীবী  বা ওই নেতা কারো তরফ থেকেই কোনও লিখিত অভিযোগ মেলেনি।’’

অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আফরোজ সরকার। তিনি বলেন, ‘‘ওরা মিথ্যে কথা বলছে, আমি গালিগালাজ করিনি। বরং ওঁরাই আমাকে হেনস্থা করেন, আমাকে মারধর করেন।’’

এ ব্যাপারে লালবাগ মহকুমা তৃণমূলের সভাপতি রাজিব হোসেন বলেন, ‘‘বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি মদ্যপ অবস্থায় মহামান্য আদালতে গিয়ে থাকেন উনি। তা হলে আমরা দলীয় ভাবে ব্যবস্থা নেব।’’