মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সদ্য দলত্যাগী সাতজন কর্মাধ্যক্ষ অপসারিত হলেন। মঙ্গলবার ওই কর্মাধ্যক্ষদের অপসারণের জন্য সাধারণ সভা ডাকা হয়। সভায় সিপিএম-কংগ্রেস জোটের ২১ জন হাজির ছিলেন। বিডিও মহম্মদ রহমত আলি বলেন, ‘‘অপসারণের পক্ষে ২১টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে কেউ

ভোট দেননি।’’

ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে ২৪টি আসন রয়েছে। কংগ্রেস ও বামেরা মিলে ১৬টি আসনে জয়ী হয়। কিছুদিন আগে সাতজন কর্মাধ্যক্ষ-সহ মোট ১০ জন সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন।

এ দিন দলত্যাগী ওই কর্মাধ্যক্ষদের পদ থেকে সরাতে ভোটাভুটি হয়। অনাস্থা সভার পক্ষে হাজির ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সিপিএম-কংগ্রেসের ১৪ জন সদস্য, তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনজন প্রধান, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের দু’জন সদস্য, মুর্শিদাবাদের সাংসদ এবং মুর্শিদাবাদের বিধায়ক। সভায় অনুপস্থিত ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলাপরিষদ সদস্য দিবাকর সরকার। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সিপিএমের বদরুদ্দোজা খান বলেন, ‘‘শরিক দলের ওই সদস্যের সঙ্গে কোনও ভাবেই যোগাযোগ করতে পারিনি। দলত্যাগীদের বহিষ্কার
করা হয়েছে।’’

ওই কর্মাধ্যক্ষদের অপসারণের কথা জানিয়ে বিডিও-কে চিঠি দেয় সিপিএম-কংগ্রেস জোটের ১৪ জন সদস্য। চিঠি পেয়ে প্রশাসন ১৪ জুলাই সভার দিন ঘোষণা করে। কিন্তু ওই সভার দিনক্ষণ চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি, এমনই অভিযোগ করে তৃণমূলের দখলে থাকা তেঁতুলিয়া পঞ্চায়েত প্রধান হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট অনাস্থা সভা ডাকার নির্দেশ দেয়। সঙ্গে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়, সংশ্লিষ্ট সকলকে তা চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। সেই মতো এ দিন অনাস্থা সভা হয়।

বদরুদ্দোজা খান বলেন, ‘‘দলত্যাগীদের উচিৎ পদত্যাগ করা। ক্ষমতা থাকলে তাঁরা নতুন করে জিতে আসুন। এটা ভোটারদের অপমান
করা হল।’’

কংগ্রেস থেকে সদ্য দলত্যাগী প্রাক্তন জেলাপরিষদ সদস্য তৃণমূলের স্থানীয় নেতা প্রবাল সরকার পাল্টা বলেন, ‘‘সিপিএম-কংগ্রেস জোটের দখলে থাকা ওই পঞ্চায়েত সমিতি কোনও উন্নয়নই করতে পারেনি। তারই প্রতিবাদে কর্মাধ্যক্ষেরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।’’