ছ’দিনের মাথায় চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাসের দাবি পূরণের পর আমরণ অনশন তুললেন মোর্চার বিনয় তামাং। শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় বোনাসের সমাধান সূত্র বার হওয়ার পর বিনয় অনশন তুলে নেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দার্জিলিং মোটর স্ট্যান্ডের অনশন মঞ্চ থেকে সরাসরি ভর্তি করানো হয় দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার পরীক্ষার পর সঙ্গে সঙ্গে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মতো রাত ৮টা নাগাদ রাজ্য পরিবহণ দফতরের বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিনয়কে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া উত্তরায়ণ উপনগরীর একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়।

নার্সিংহোম সূত্রের খবর, ছ’দিনের টানা অনশনে বিনয় জল বা তরল জাতীয় কিছুও খাননি। তাতে শরীরের অত্যধিক মাত্রায় জলের ঘাটতি বা ‘ডিহাইড্রেশন’ হয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের চিন্তা বাড়িয়ে বিনয়ের হৃদযন্ত্রে কিছুটা সমস্যা ধরা পড়েছে। এ দিন সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাঁকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের অস্বাভাবিকতার সঙ্গে তলপেটে ব্যথা রয়েছে। মূত্র খুবই কম হলেও দু’দিন ধরে তাতে রক্তের নমুনা ধরা পড়েছে। রক্তচাপ ওঠানামা করেছে। প্রথম দিকে ১০০/৭০ রক্তচাপ বেড়ে ১২৭/৭০ মতো হয়েছে। রক্তের শর্করার মাত্রায়ও হেরফের রয়েছে। রাতেই নার্সিংহোমের ইমারজেন্সিতে এক দফায় পরীক্ষার পর তাঁকে সাধারণ আইসিইউতে বেড না থাকায় সার্জিক্যাল আইসিইউ-র ৪ নম্বর বেডে রাখা হয়েছে। তবে চিকি‌ৎসকেরা বেশি রাতে জানিয়েছেন, বিনয় চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর জ্ঞানও রয়েছে।

নার্সিংহোমের তরফে রাতেই সাত জনের মেডিক্যাল টিম তৈরি করে বিনয় তামাঙের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বোর্ডের মাথায় আছেন চিকিৎসক (ইন্টারনাল মেডিসিন) প্রেম দোরজি ভুটিয়া। এ ছাড়া, মেডিক্যাল টিমে হৃদরোগ, নেফ্রোলজিস্ট, ইউরোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা ছাড়াও ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসকেরা আছেন। চিকিৎসক প্রেম দোরজি ভুটিয়া বলেন, ‘‘টানা অনশনের জেরে শরীরের বহু সমস্যা তৈরি হয়েছে। হৃদযন্ত্রের কিছু অস্বাভাবিকতা এবং মূত্রে রক্ত আসাটা চিন্তার।’’ ওই চিকিৎসক বলেন, ‘‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে বিনয় তামাংকে দেখছি। কানের একটি ছোট সমস্যা ছাড়া তাঁর শরীরের তেমন কিছু সমস্যা ছিল না। অনশনের জেরে জল একেবারেই শরীরে না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে।’’ তবে বিনয়ের জ্ঞান রয়েছে।