দুই দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হলেন দুই পুলিশকর্মী। শনিবার ভোর রাতে চোপড়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাপাড়া এলাকার ওই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন সাব-ইন্সপেক্টর প্রবীণ গুরুং। আহত হয়েছেন তাঁর সহকর্মী পিন্টু বর্মণও। তাঁদের সকালেই ইসলামপুর থেকে মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে আনা হয়। পরে প্রবীণকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার পর দিনভর তল্লাশি চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের শনিবার ইসলামপুর মহকুমার অতিরিক্ত দায়রা আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত চার জনকে ধরা হয়েছে। এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, ছিনতাই সহ বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চোপড়ার ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা সওদাগর এবং তাঁর এক সঙ্গীকে শনিবার শেষ রাতে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল পুলিশের একটি দল।

সওদাগরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় আলো নিভিয়ে দিয়ে পুলিশের উপরে গুলিবৃষ্টি করা হয়। একটি বুলেট প্রবীণের মাথার পিছন ফুঁড়ে মস্তিস্কে ঢুকে গেলে সেখানেই পড়ে যান তিনি। তখন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় দুষ্কৃতীরা। এসআই পিন্টু বর্মণেরও বাঁ দিকের পাঁজর ছুঁয়ে একটি বুলেট বেরিয়ে যায়। সওদাগর ও আহত দুই পুলিশকর্মীকে নিয়ে কোনও রকমে বেরিয়ে আসে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের সকালে শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে আনা হয়।

এ দিন আহত পুলিশকর্মীদের দেখতে নার্সিংহোমে যান মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‘প্রবীণ গুরুং এবং পিন্টু বর্মণরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে। সাধ্য মতো চেষ্টা করতে বলেছি ডাক্তারদের।’’ এ দিনই একটি মেডিক্যাল বোর্ড বসানো হয় ওই নার্সিংহোমে। প্রবীণের মেরুদণ্ডের দুই জায়গায় ভেঙেছে। ব্লাড সুগার, পালস রেট অস্ত্রোপচার করার মতো অবস্থায় ছিল না বলে শনিবার তাঁর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নেননি চিকিৎসকরা। বোর্ডের দু’জন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর পরিবারকে জানান, পুরোপুরি স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা হয় এরকম হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার করা ভাল। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে প্রবীণের পরিবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লি থেকে শনিবার রাতেই একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আনা হয় বাগডোগরা বিমানবন্দরে। অন্য এসআই পিন্টুর অবস্থা খানিকটা স্থিতিশীল বলেই জানানো হয়েছে নার্সিংহোম সূত্রে।

সওদাগর এলাকাতে কংগ্রেস কর্মী বলে পরিচিত। কংগ্রেসের দাবি, সওদাগরকে রাজনৈতিক কারণে ফাঁসানো হয়েছে।