পঞ্চায়েত সমিতি বোর্ড গঠনের শেষ দিনেও অশান্তি এড়ানো গেল না মালদহে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনকে ঘিরে বিজেপি ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিডিও অফিস সংলগ্ন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। এ দিন বোর্ড গঠন শুরু হওয়ার প্রাক মুহূর্তে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করে বিজেপি। পুলিশকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। পুলিশও পাল্টা বেধড়ক লাঠি চালায় বলে অভিযোগ। কাঁদানে গ্যাসও ছোড়ে পুলিশ। যদিও লাঠি চালানো বা কাঁদানে গ্যাস ফাটানোর কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
গোলমালে অন্তত ২০ জন বিজেপি কর্মী ও পাঁচ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। দুই চিত্র সাংবাদিকও আহত হন। পুলিশ ২৫ জন বিজেপি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূলকে বোর্ড পাইয়ে দিতে পুলিশ প্রশাসন মিলে এদিন অশান্তি সৃষ্টি করল। তৃণমূলের জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল সরকারের বক্তব্য, ‘‘কে কোথায় কোন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, জানব কী করে? তবে পুরাতন মালদহে আমরা বোর্ড গড়েছি।’’ আর পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘একটি দলের সদস্যরা এ দিন পুলিশকে আক্রমণ করে। সরকারি কাজে বাধা দেন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’’
এ দিন পুরাতন মালদহ সহ বামনগোলা, হবিবপুর ও মানিকচক—মালদহে এই চারটি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন ছিল। বাকি তিনটিতে তেমন গোলমাল হয়নি। পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির ১৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি ৮টি করে পেয়েছিল এবং কংগ্রেস পায় ২টি। তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলই দাবি করে, কংগ্রেসের এক জন করে সদস্য তাদের সমর্থন করছেন। ফলে দু’পক্ষের কার্যত ৯ জন করে সদস্য থাকায় বোর্ড গঠনকে ঘিরে এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল পুরাতন মালদহ বিডিও অফিস নারায়ণপুরে। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। প্রচুর পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন ছিলেন। মালদহ থানার আইসি-র পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অরিন্দম সরকারও সেখানে ছিলেন। 
স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন দলের সদস্যরাই বেলা ১১টার আগে বিডিও অফিসে ঢুকে পড়েন। কিন্তু বোর্ড গঠন শুরুর প্রাক মুহূর্তে বিডিও অফিস চত্বর থেকে জয়দেব সরকার নামে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দুই আগে হবিবপুরের ডুবাপাড়ায় একটি গণপিটুনিতে মৃত্যুর মামলায় সেই বিজেপির সদস্যর নাম ছিল। এ দিন তাঁকে সেই মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়। তারপরেই গোলমাল শুরু
হয়ে যায়। বোর্ড অবশ্য বিনা ভোটাভুটিতেই পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপির দাবি, মালদহ থানার আইসি ও বিডিও মিলে বিজেপির নির্বাচিত সদস্যদের বোর্ড গঠনের সভা থেকে বার করে দেন। মহিলা সদস্যদের হেনস্থা করা হয়। বিডিও এবং আইসি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।