মোবাইল ফোনে মিড-ডে মিল খাবারের তালিকার ছবি তোলায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। শুক্রবার রায়গঞ্জের মহারাজাহাট হাইস্কুলের ঘটনা। মারধরে আহত ছাত্র রাহুল মাল্লা হাসপাতালে ভর্তি।   

প্রধান শিক্ষক সুব্রত সাহা ও পরিচালন সমিতির সভাপতি জগবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে শনিবার রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ছাত্রটির পরিবার। তার মোবাইল ফোনটিও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ, রাহুল দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। পড়ুয়াদের মোবাইল নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও কিছুদিন আগে রাহুল স্কুলে মোবাইল ফোন এনে কয়েকজন ছাত্রীর ছবি তুলেছিল। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এ দিন সে ফের মোবাইল নিয়ে স্কুলে ধরা পড়ায় নিজেই মেঝেতে আছাড় মেরে ফোন ভেঙে দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ এরপর তাকে স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করায় রাহুল মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে সুব্রতবাবুর দাবি। এ ব্যাপারে শুক্রবার সন্ধেতেই রাহুলের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে জেনারেল ডায়েরি করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘পুলিশ দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’’

হাসপাতালে রাহুলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে নিম্নমানের মিড-ডে মিল রান্না হচ্ছে। মিড-ডে মিলের দৈনন্দিন খাবারের তালিকার সঙ্গে পড়ুয়াদের দেওয়া খাবারের কোনও মিল থাকে না। তাই খাবারের তালিকার ছবি তোলার জন্য মোবাইল নিয়ে গিয়েছিল সে। সেই সময় প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির সভাপতি তাকে মেঝেয় ফেলে কিল-চড়, লাথি ও ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ। মোবাইলটি কেড়ে আছাড় মেরে ভেঙে সুব্রতবাবু রাহুলকে একটি সাদা কাগজে স্কুলে মোবাইল এনে ছবি তোলার বিষয়টি লিখিয়ে নেন। রাহুলের দাবি, ‘‘মিড-ডে মিলের খাবারের তালিকার ছবি তোলায় ওঁরা আমাকে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেন।’’