মৌসম নুর তৃণমূলে যেতেই ভোল বদলে গেল নুর ম্যানসনের। মালদহের জেলা সদর ইংরেজবাজার শহরের স্টেশন রোডে থাকা উত্তর মালদহের সাংসদ মৌসমের কার্যালয়ে বসল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তবে, মমতার ছবি রাখা হলেও মৌসমের মা রুবি নুর ও মামা গনি খানের ছবিও পাশাপাশি রাখা হয়েছে সেখানে। রাজনৈতিক মহলের চর্চা, মমতাকে মধ্যমনি করে মামা ও মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যেতে চান মৌসম এবং কার্যালয়ে লাগানো ছবিতে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 

মৌসম অবশ্য বলেন, “এ কথা অস্বীকার করলে চলবে না যে আমি গনি খানের পরিবারের সদস্য। পাশাপাশি মায়ের হাত ধরেই আমার প্রথম রাজনীতিতে প্রবেশ। এই দু’জনকে বাদ দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবনকে আমি ভাবতেই পারি না। এখন আমি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে আমার রাজনৈতিক জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছি। সকলেই আমার কাছে প্রণম্য। তাই তিন জনের ছবি কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই আমি এগিয়ে যেতে চাই।’’ 

গত ২৮ জানুয়ারি মালদহ জেলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা উত্তর মালদহের সাংসদ মৌসম দল ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখান। নবান্নে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি দলে যোগ দেন। মমতা তাকে সেদিনই উত্তর মালদহের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দেন। এবং রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করার পাশাপাশি মৌসমকে মালদহ, দুই দিনাজপুর সহ মুর্শিদাবাদ জেলার সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখারও দায়িত্ব দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলে যোগ দিয়েই তাঁর ব্যাক্তিগত কার্যালয় নুর ম্যানসনের ভোল বদলানোর কাজ শুরু করেন মৌসম। তিনি সেই কার্যালয়ের যে বড় একটি হলঘরে বসে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সেখানে তৃণমূলের জেলা কার্যালয় বলে বড়সড় বোর্ড লাগানো হয়েছে। তাঁর হাত ধরে যে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন তাঁদের সেই কার্যালয়েই এনে যোগদান করানো হচ্ছে। এ ছাড়া তৃণমূলের যে সমস্ত নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানাতে সংবর্ধিত করছেন সেই সংবর্ধনা পর্বও সেখানে হচ্ছে। ওয়াকিবহল মহল জানাচ্ছে, মৌসম কংগ্রেসে থাকাকালীন সেই কার্যালয়ে আগে দলীয় কোনও নেতা বা নেত্রীর ছবি সেখানে দেখা যায়নি। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দুদিন আগে সেই কার্যালয়ে বসে তৃণমূল নেত্রী মমতার ছবি। শুধু তাই নয়, সমান সম্মান জানাতে সেই কার্যালয়ে মা রুবি নুর ও মালদহের রূপকার বলে পরিচিত মামা গনি খানের ছবিও রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় মৌসম সেই তিন নেতা-নেত্রীর ছবির নীচেই বসে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত। কর্মীরা অনেকে সেই ছবিকে সামনে রেখে মৌসমের সঙ্গে সেলফি তুলতেও ব্যস্ত। মৌসম বলেন, ‘‘তিন জনের ছবি কার্যালয়ে রেখে গর্বিত।’’