রেলের বিদ্যুদয়নের কাজের জন্য অস্বাভাবিক দেরিতে চলতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সংযোগরক্ষাকারী এক রকম সব ক’টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। সোমবার দু’ঘণ্টা থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলাচল করেছে দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। তার উপরে এই সমস্যা এখনই কাটছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন রেলের কর্তারা। এই সমস্যা চলতে পারে আগামী আরও এক মাস। এ দিন একমাত্র শতাব্দী এক্সপ্রেস এনজেপি থেকে সময়ে ছেড়েছে বলে দাবি রেলের।

দেড় মাসের উপর হয়ে গেল আলুয়াবাড়ি থেকে এনজেপি পর্যন্ত বিদ্যুদয়নের কাজ চলছে। তার জেরে বারবার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো অস্বাভাবিক দেরিতে চলার অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার আবারও একই ঘটনা ঘটল। কলকাতা এবং দিল্লি থেকে এনজেপিগামী কয়েকটি ট্রেন সকালের বদলে এসে পৌঁছয় দুপুরে। তার জেরে যাত্রীদের প্রচণ্ড নাজেহাল হতে হয়। 

ট্রেন দেরির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পর্যটনেও। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক প্রণবজ্যোতি শর্মা বলেন, ‘‘বিদ্যুদয়নের কাজের জন্যই আমরা ট্রাফিক ব্লক করতে বাধ্য হচ্ছি। আরও কিছু দিন এই কাজ চলবে।’’ রেল সূত্রে ইঙ্গিত, বিদ্যুদয়নের কাজ আরও প্রায় এক মাস চলতে পারে। তবে রেলের কর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, যতটা পারা যায় ট্রেনের সূচি বজায় রেখেই কাজ করার চেষ্টা হচ্ছে। তা বাস্তবে কাজে লাগছে না বলে অভিযোগ।

রেল সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে আটটা থেকে কাজ শুরু হচ্ছে ওই রুটে। পথে অন্য জায়গায় দেরি হওয়ার জন্য ওই সময়ের আগে আলুয়াবাড়ি থেকে এনজেপির ওই এলাকা পেরিয়ে আসতে পারছে না ট্রেনগুলি। তাই সকাল সাড়ে আটটার পরে থেকে সব ট্রেনই ঢুকতে দেরি করছে। ভোর পাঁচটা থেকে শুরু করে বেলা সওয়া ন’টার মধ্যে যে ট্রেনগুলি ঢোকার কথা, একটি দেরি হয়ে গেলে আলুয়াবাড়ির আগে সিগন্যালের অভাবে পর পর বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে সেগুলি। এ দিন পদাতিক এবং উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়েন। পদাতিক এক্সপ্রেসের যাত্রী তথা নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার বিনয় সরকার শিলিগুড়ি এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘জল শেষ হয়ে গিয়েছিল শৌচাগারে।’’ 

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অল্প সময় দেরিতে চললে পর্যটনের সূচি বজায় রাখা সম্ভব। কিন্তু পাঁচ-সাত ঘণ্টা ট্রেন দেরি হলে পুরো দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়। তার প্রভাব পর্যটকদের দলগুলোর উপর পর পর পড়তে থাকে। অনেক সময় বুকিং ক্যানসেলও করতে হচ্ছে।

আলুয়াবাড়ি থেকে বাগডোগরা হয়ে আরও একটি বিকল্প রুট রয়েছে। কেন সেই পথে ট্রেনগুলি চালানো হচ্ছে না? রেলের ট্র্যাফিক কর্তারা জানান, ওই লাইনটি মূলত মালগাড়ির জন্য ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক রুট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি রুটে সূচি গোলমাল হলে তার ফলস্বরূপ সেই রুটেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করেছে।